Tuesday, September 21, 2021
0 0
Homeশীর্ষ খবরভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের দুর্বলতা, আর চীনের সাথে শক্তিশালী বন্ধন

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের দুর্বলতা, আর চীনের সাথে শক্তিশালী বন্ধন

Read Time:6 Minute, 38 Second

দুই কালক্রম নির্ণয়

ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক দুর্বল হচ্ছে, আর চীনের সাথে বন্ধন শক্তিশালী হচ্ছে

তবে সরকার এশিয়ার উভয় পরাশক্তির সাথে একই সাথেই সুসম্পর্ক রাখতে আগ্রহী


দি ইকনমিস্ট:

বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শহর সিলেট ভারত সীমান্ত থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার (আনুমানিক) দূরে অবস্থিত। কিন্তু এই শহরটিতে একটি বিমানবন্দর টার্মিনাল নির্মাণের জন্য গত এপ্রিলে সরকার দরপত্র আহ্বান করলে ভারতীয় দরদাতাদের হারিয়ে সেটি জিতে নিয়েছে বেইজিং আরবান কনস্ট্রাকশন গ্রুপ নামের এক চায়নিজ ফার্ম। জুনে বাংলাদেশের ৯৭% রফতানি পণ্যকে করমুক্ত ঘোষণা করেছে চীন। এই মাসে বাংলাদেশ ভারতের সাথে তিস্তা চুক্তির ব্যাপারে দশকব্যাপী নৈরাশ্যকে পাশ কাটিয়ে তার বদলে পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়নের জন্য চীনকে অনুরোধ করেছে।

 

বাংলাদেশ ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকার কারণ, ১৯৭১ সালে ভারতের সেনাবাহিনী তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানে প্রবেশ করে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা করেছে। ফলে সব সময়ই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে খুবই ঘনিষ্ট সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে। কিন্তু বহু বাংলাদেশি মনে করে, ভারত বাংলাদেশের দাদাসুলভ ও অসৌজন্যমূলক মিত্র। এক বাংলাদেশি সাংবাদিক বলেন, তারা আসলে বিশ্বাস করে না যে আমরা স্বাধীন। তারা সব বিষয়ে নাক গলায়। তারা মনে করে আমাদের প্রশাসন তাদের জন্য কাজ করে। ভারতের বর্তমান সরকারের নানাবিধ মুসলিম বিরোধী নীতিও ভারতের প্রতি বাংলাদেশের আস্থাহীনতা বৃদ্ধি করছে, কারণ বাংলাদেশের প্রায় ৯০% জনগণ মুসলিম।

 

চীন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে সাতটি মৈত্রী সেতু নির্মাণ করেছে। ২০১৮ সালে ভারতকে পিছনে ফেলে চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী দেশে পরিণত হয়েছে। চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারও বটে। ২০১৬ সালে জি জিনপিং এক রাষ্ট্রীয় সফরে ২৭টি অবকাঠামোগত প্রকল্পে আরো ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করার ওয়াদা করেছেন। বাংলাদেশে বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক শীর্ষস্থানীয় এক অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসাইন বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পাওয়ার ও টেলিকম খাতে চায়নিজ বাণিজ্য পরিচালিত হয়।

 

অন্য পশ্চিমা দাতাগোষ্ঠীর তুলনায় চীনের দ্বিধার জায়গা অনেক কম, যেমনটা বলছিলেন ইলিনয়স বিশ্ববিদ্যালয়ের আলি রিয়াজ। ২০১৩ সালে বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত শুরু করলে বাংলাদেশ পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংকের ১.২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ প্রত্যাখ্যান করে। তখনই চীন সে প্রকল্পে পা রাখে।

 

জনাব রিয়াজ বলেন, গত কয়েক বছরে চীনে অধ্যয়নরত বাংলাদেশিদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গণমাধ্যমের চীনমুখিতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশের এক ফিন্যান্সিয়াল পত্রিকার প্রতিবেদক জানান, তার পত্রিকার ৭০% সাংবাদিকই চীনে গিয়েছেন। তিনি নিজেও ২০১৮ সালে চীনে দশ মাসের একটি ফেলোশিপে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশে কোভিড-১৯ পৌছার প্রায় সাথে সাথেই মহামারী প্রতিরোধে সহায়তা করার জন্য চীনা চিকিৎসক দল বাংলাদেশে প্রেরিত হয়েছিলেন।

 

এসব সহযোগিতা কাজেও আসছে। চায়নিজ সরকার ভারতীয় সরকারের তুলনায় অনেক বেশি মুসলিমদের নির্যাতন করছে। বাংলাদেশি পণ্যের ডিউটি-ফ্রি প্রবেশাধিকারও যথেষ্ট ধীর গতিতেই প্রদান করেছে চীন। এতদসত্ত্বেও বাংলাদেশের মিডিয়ায় ভারতের তুলনায় চীন কম সমালোচনার শিকার হচ্ছে।

 

বাংলাদেশের সরকার একটু বেশিই সতর্ক। চীনের নিকট দায়গ্রস্ত হয়ে পড়ার ব্যাপারে সরকার চিন্তিত, আবার ভারতকে তিরষ্কার করার ব্যাপারেও সতর্ক। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গত মার্চে ঢাকা সফর করার কথা ছিল, করোনা ভাইরাসের দরুণ সে সফর বাতিল হয়েছে। তবে এরকম বড় ও শক্তিশালী প্রতিবেশী থাকাটা বেশ যন্ত্রণাদায়ক বটে। জনাব রিয়াজ বলেন, ভারতের নীতিনির্ধারক মহল ও গণমাধ্যম সব সময় বাংলাদেশকে মনে করিয়ে দিতে থাকে যে বাংলাদেশ ছোট ও অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ দেশ। চীন এমনটা করে না।” ■

 

––––––––––––––––––––––––––––––––

নিবন্ধটি দি ইকনমিস্ট পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণের এশিয়া অংশে “Two-timing” শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে। দি ইকনমিস্টের অনলাইন সংস্করণে নিবন্ধটি As Bangladeshs relations with India weaken, ties with China strengthenশিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে। ছবি দি ইকনমিস্টের সংশ্লিষ্ট পাতা থেকে সংগৃহীত।

 

 


Happy

Happy

0 %


Sad

Sad

0 %


Excited

Excited

0 %


Sleepy

Sleepy

0 %


Angry

Angry

0 %


Surprise

Surprise

0 %

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments