Wednesday, June 16, 2021
0 0
Homeমধ্যপ্রাচ্যআঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের হুশিয়ারি

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের হুশিয়ারি

Read Time:5 Minute, 53 Second

ইরানের রাষ্ট্রপতি হাসান রুহানি বক্তব্য দিচ্ছেন, ছবি: রয়টার্স
ইরানের রাষ্ট্রপতি হাসান রুহানি বক্তব্য দিচ্ছেন, ছবি: রয়টার্স


আল জাজিরা ইংরেজি:
ইরানের রাষ্ট্রপতি হাসান রুহানি বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এই সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণকালে তার দেশএকটি আঞ্চলিক সহযোগিতা পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে।
১৯৮০’র দশকের ইরান-ইরাক যুদ্ধ সূচনার বর্ষপূর্তি উপলক্ষে একটি টেলিভিশন ব্ক্তৃতায় রুহানি বলেন যে ইরান তেহরানের নেতৃত্বে উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী অঞ্চলের বৈদেশিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই অঞ্চলের দেশ সমূহের প্রতি “বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের হাত” বাড়াবে। উল্লেখ্য হরমুজ প্রণালী পুরো দুনিয়ার তেল শিল্পের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার বলে বিবেচিত হয়।
তবে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক সম্প্রতি এ অঞ্চলে সৈন্য বৃদ্ধির একটি সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় রুহানি উপসাগরীয় অঞ্চলে বৈদেশিক শক্তির উপস্থিতির বিরুদ্ধে হুশিয়ারি ঘোষণা করেন।
রুহানি বলেন, “বিদেশি সামরিক শক্তি আমাদের জনগণ ও অঞ্চলের অনিরাপত্তা এবং সমস্যার কারণ হতে পারে।” উল্লেখ্য রুহানি এই সপ্তাহের শেষের দিকে জাতিসংঘের বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য নিউ ইয়র্ক সফর করবেন।
সৌদি তেলক্ষেত্রে হামলা
গত সপ্তাহে সৌদির অন্যতম বৃহৎ দুই তেল স্থাপনায় হামলার পর থেকে এ অঞ্চলে উত্তেজনা নতুস উচ্চতায় পৌছেছে।
যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরব আরামকোতে হামলার পিছনে ইরানকে দায়ী করছে, যদিও ২০১৫ সাল থেকে সৌদি-আমিরাত জোটের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা এ হামলার দায় স্বীকার করেছেন।
ইরান এ হামলার সাথে কোন ধরনের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করছে।
এ হামলার পর ওয়াশিংটন জানিয়েছে, তারা সৌদি ও আমিরাতে অস্ত্র ও কয়েক শত সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমনিতেই যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলের নৌপথ ও প্রধান প্রধান তেল বাণিজ্যপথসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে আমিরাত, সৌদি, বাহরাইন, ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে একটি নৌ জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে।
রুহানি তার বক্তব্যে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বিদেশি শক্তিদের দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন: “তারা যদি আন্তরিক হয়ে থাকে, তবে আমাদের অঞ্চলকে অস্ত্র প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র বানানো তাদের জন্য উচিত হবে না।
তিনি আরো বলেন: “মার্কিনরা অথবা আমাদের শত্রুরা যেখানেই গেছে … সেখানেই অনিরাপত্তা দেখা দিয়েছে।
“আমরা অন্যদের সীমান্ত লঙ্ঘন করতে যাবো না। একইভাবে অন্য কাউকেও আমাদের সীমান্ত লঙ্ঘন করার সুযোগ দেবো না।”
অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ”
ইরান এবং বিশ্বশক্তিসমূহের মধ্যে ২০১৫ সালে সাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাহার করার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যে সংকট দেখা দিয়েছিল, সৌদি আরবে হামলার ফলে সেটি আরো গভীর হয়েছে। এরপর থেকে ইরানের অর্থনীতি ধ্বংস করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় নিষেধাজ্ঞাসমূহ আরোপ করেছে এবং ইরানের তেল রফতানি শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে।
এর জবাাবে ধীরে ধীরে তেহরান পরমাণু চুক্তির সকল প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসছে এবং সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত যে কোন ধরনের আলোচনার প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করছে।
রুহানি তার বক্তব্যে নিষেধাজ্ঞাগুলোকে অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ বলে আখ্যায়িত করে বলেন, ইরানের “বিপ্লবী জনগণ” এ সকল হুমকিতে ভীত নয়।
তিনি আরো বলেন, “গত ৪০ বছর ধরে, এবং বিশেষত গত ১০ বছরে আমাদের জনগণ নিষেধাজ্ঞার চাপ সহ্য করতে অভ্যস্থ হয়ে পড়েছে।”
তিনি আরো যোগ করেন, “প্রতিরোধ, প্রজ্ঞা ও ঐক্যের মাধ্যমে … ইরান অবশ্যই এই কঠিন সময় অতিক্রম করতে সক্ষম হবে।”
________________________________
আল জাজিরা কর্তৃক “Iran to present regional security plan at UNGA: Rouhani” শিরোনামে মূল প্রতিবেদনটি প্রকাশিত। ছবি আল জাজিরার সংশ্লিষ্ট পাতা থেকে সংগৃহীত।


Happy

Happy

0 %


Sad

Sad

0 %


Excited

Excited

0 %


Sleepy

Sleepy

0 %


Angry

Angry

0 %


Surprise

Surprise

0 %

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments