Monday, June 14, 2021
0 0
Homeশীর্ষ খবরট্রাম্পের দুনিয়ায় কূটনীতি যখন ফরাসিদের হাতে...

ট্রাম্পের দুনিয়ায় কূটনীতি যখন ফরাসিদের হাতে…

Read Time:8 Minute, 30 Second


প্যারিস, পলিটিকো:
মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প হয়তো আন্তর্জাতিক বিশ্বব্যবস্থাকে একেবারে ওলট-পালট করে ফেলছেন, কিন্তু তা র আমেরিকা ফার্স্ট নীতিকে ফরসি রাষ্ট্রপতি অ্যামানুয়েল ম্যাক্রোঁ নিদের সুবিধা মতো কাচে লাগাচ্ছেন।
গত কয়েক মাসে ম্যাক্রোঁ সাহেব বৈশ্বিক পর্যায়ে তার সক্রিয়তা ধারাবাহিকভাবে বাড়িয়েছেন, ইইউর সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, ইরানে ঝুঁকিপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু করেছেন, ইউক্রেনে পুনরায় প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করেছেন এবং অন্ততপক্ষে সাত জাতির মধ্যে ঐক্যটুকু ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন, যা তাঁর দুই পূর্বসূরী পারেন নাই।
ফরাসি রাষ্ট্রপতি বিশ্বকূটনীতিতে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন, সেটার আংশিক ভিত্তি হচ্ছে এই যে, ট্রাম্প ও পুতিনের মতো বদমেজাজি জুটিকে ঘাঁটাঘাঁটি করার মতো আত্মবিশ্বাস স্পষ্টতই তার রয়েছে।
ম্যাক্রোঁ তার বিদেশনীতি অনুযায়ী যে সকল আক্রমণ চালাচ্ছেন, শেষ পর্যন্ত তার কোন একটিতেও তিনি চুড়ান্ত সাফল্য লাভ করতে সক্ষম হবেন কি না, সে কথা বলার সময় এখনো হয়নি। এখন অবধি তার হাতে দেখানোর মতো বাস্তবসম্মত ফলাফল খুব একটা নেই। ইতোপূর্বে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে (ইরান পারমাণবিক চুক্তি অথবা পরিবেশ বিষয়ে) কিংবা পুতিনের বিরুদ্ধে (সিরিয়া এবং সাইবারযুদ্ধ বিষয়ে) জয়ী হওয়ার জন্য তিনি যে প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন, তা খুব বেশি দূর পর্যন্ত এগুতো পারেনি, এবং শ্বেতভবন-কর্তার টুইট-ক্ষোভ থেকে তাঁকে বাঁচাতেও পারেনি।
লিবিয়াতে তিনি দুটি সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন, কিন্তু সেগুলো থেকে সংবাদপত্রের শিরোনাম হওয়ার চেয়ে বেশি খুব একটা কিছু তিনি অর্জন করতে পারেননি। শুধু যে লিবিয়ার পরিস্থিতির কোন উন্নয়ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাই নয়; বরং উল্টো অনেক ইউরোপীয় কর্মকর্তা তার এসব উদ্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন।
তা সত্ত্বেও, যেই ম্যাক্রোঁ সাহেব ২০১৭তে যখন ক্ষমতায় এসেছিলেন তখন বিদেশনীতিসমূহকে তার অন্যতম দূর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করা হতো, সেই তিনি বহুপাক্ষিক অঙ্গনসমূহ থেকে ট্রাম্পের পশ্চাদপসরণ, ব্রিটেনের ব্রেক্সিটাতঙ্ক এবং জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে ফ্রান্সের কূটনৈতিক সক্ষমতার স্মারক হিসেবে কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছেন, যদিও তিনি এখনো মার্কিন শক্তির সমকক্ষতা অর্জন করতে পারেননি।
ফ্রান্সের ভূমিকা হলো মধ্যস্থতাকারী শক্তি হওয়া … আমাদের অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো আমারা প্রত্যেকের সাথে কথা বলি … এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে কার্যকরী সমাধান বের করে আনার চেষ্টা করি,” বিয়ারিতজে  জি৭ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদেরকে ম্যাক্রোঁ এসব কথা বলেছিলেন।
ফ্রান্সের অবশ্যই আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালনের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে দেশটির অবস্থান, শক্তিশালী সামরিক বাহিনী, জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের স্থায়ী সদস্য পদ, সব মিলিয়ে ফ্রান্স অন্য অনেক দেশের তুলনায় শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে, এমনকি অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ জার্মানিও এক্ষেত্রে ফ্রান্সের সমকক্ষ নয়।
কিন্তু ম্যাক্রোঁ তার অবস্থানকে আরো এগিয়ে নেওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন।
শুধুই ২০১৫ সালের প্যারিস পরিবেশ চুক্তির সময় থেকেই ফ্রান্স আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এরকম কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে না,” অবসরপ্রাপ্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত মিশেল ডুক্লোস বলছেন, যিনি রাশিয়া, নিউ ইয়র্ক এবং সিরিয়ায় দায়িত্ব পালন করেছেন, এবং বর্তমানে ফ্রেঞ্চ থিংকট্যাংক মন্টেইনে ইনস্টিটিউটের উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত আছেন।
এখন অবধি, যুক্তরাষ্ট্রের শূন্যস্থান পূরণে ম্যাক্রোঁ প্রচেষ্টা নিয়ে জার্মানি, যুক্তরাজ্য প্রভৃতি ইউরোপীয় শক্তিগুলো উদ্বিগ্ন নয়। বরং এসব দেশের কোন কোন কূটনীতিবিদ তো ম্যাক্রোঁর এই প্রচেষ্টার প্রশংসাই করছেন।
উচ্চপর্যায়ের এক ব্রিটিশ কূটনীতিক বলেন, “ম্যাক্রোঁ এই স্থানটি দখল করছেন, এবং তিনি নতুন চিন্তা নিয়েই এসেছেন।”
আরেক জার্মান কূটনৈতিক কর্মকর্তা বলছেন, “ঝুঁকি নেওয়ার কেউ না কেউ থাকেই, এবং সেই জি-৭’র প্রেক্ষাপটে লাভবান হয়েছে।”
ঐ সম্মেলনে ম্যাক্রোঁ ট্রাম্পকে এক পাশে সরিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন, এমনকি নেতৃবৃন্দ বৈঠকে থাকা অবস্থায় তিনি যখন আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফকে বিয়ারিতজ যাওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন, তখনও তিনি ট্রাম্পকে পাশ কাটিয়ে গিয়েছিলেন, যদিও ট্রাম্প আশেপাশেই ছিলেন। অ্যামাজন ইস্যুতেও তিনি ব্রাজিলিয়ান রাষ্ট্রপতির সাথে বৈঠক করে সংবাদ মাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
আপাত দৃষ্টিতে ঐ সম্মেলনের বাস্তব ফলাফল ছিল খুবই সামান্য অ্যামাজনের জন্য সহায়তা এবং ডিজিটাল ট্যাক্সের বিষয়ে সীমিত অগ্রগতি ইত্যাদি এই ফলাফলের অন্তর্ভুক্ত। তবে দীর্ঘমেয়াদে ম্যাক্রোঁর সাফল্য কিংবা ব্যর্থতার বিচার হবে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারা-না পারার ভিত্তিতে। উদাহরণস্বরূপ ইরানের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন, ইউক্রেন দ্বন্দ্বের সমাধান প্রভৃতি ইস্যু ম্যাক্রোঁর সাফল্যের মাপকাঠি হিসেবে পরিগণিত হবে।
________________________________
পলিটিকো ম্যাগাজিনে প্রকাশিত In a Trump world, diplomacy is being conducted in French (again) শীর্ষক প্রতিবেদনের প্রথম অংশের অনুবাদ। ছবি পলিটিকোর সংশ্লিষ্ট পাতা থেকে সংগৃহীত।

Happy

Happy

0 %


Sad

Sad

0 %


Excited

Excited

0 %


Sleepy

Sleepy

0 %


Angry

Angry

0 %


Surprise

Surprise

0 %

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments