Wednesday, September 22, 2021
0 0
Homeমধ্যপ্রাচ্যবিরল আন্দোলনে সিসির পতন দাবি মিশরিদের..

বিরল আন্দোলনে সিসির পতন দাবি মিশরিদের..

Read Time:7 Minute, 59 Second

মিশরে সিসির বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের মিছিল
শুক্রবার রাতে মিশরে সিসির বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের মিছিল…


আল জাজিরা ইংরেজি:
রাষ্ট্রপতি আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার হাজার হাজার গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারী মিশরজুড়ে বিভিন্ন শহরে মিছিল করেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা শুক্রবার গভীর রাতে “জেগে উঠুন, ভয় নেই, সিসিকে অবশ্যই যেতে হবে” এবং “জনগণের দাবি, সরকারের পতন” প্রভৃতি স্লোগান দিচ্ছে।
রাজধানী কায়রো, দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেকজান্দ্রিয়া এবং সুয়েজে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।
সাদা পোশাকধারী সেনা কর্মকর্তারা তাহরির চত্ত্বর অভিমুখী বিক্ষোভকারীদের মোকাবেলা করেন, যে চত্ত্বরে ২০১১ শুরু হওয়া আন্দোলনের ফলে হোসনি মুবারাকের পত ঘটেছিল।
মিশরের অভ্যন্তরে খবর সংগ্রহ আল জাজিরার জন্য নিষিদ্ধ, তবে রাজধানীতে বেশ কয়েকটি গ্রেফতার ও আন্দোলনকারীদের উপর টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপের খবর পাওয়া গেছে।
স্ব-নির্বাসিত মিশরীয় ব্যবসায়ী ও অভিনেতা মোহাম্মদ আলী রাষ্ট্রপতি এল-সিসির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনার পর থেকে এই বিক্ষোভগুলি শুরু হয়েছিল, আন্দোলনে জনগণকে রাস্তায় নেমে সিসির অপসারণের দাবি জানিয়েছে। এল-সিসি অভিযোগগুলিকে “মিথ্যা” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
গত মঙ্গলবারে পোস্ট করা একটিভিডিওতে আলি বলেন, “সিসি যদি বৃহষ্পতিবারের মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা নাদেন, তবে মিশরীয় জনগণ শুক্রবার চত্ত্বরে বেরিয়ে আসবে
আলি সেপ্টেম্বরের ২ তারিখ প্রথম ভিডিও পোস্ট করা শুরু করেন। তার সর্বশেষ ভিডিওটি লাখ লাখ বার দেখা হয়, এবং এর ফলে তিনি তার মাতৃভূমিতে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।
আন্দোলনের গতি বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষিতে শুক্রবারে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে আলি জনগণকে শক্ত থাকার জন্য এবং অধিকার আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন।
আলি তার ভিডিও বার্তায় বলেন, আল্লাহ মহান, ইতোমধ্যে যথেষ্ট হয়েছে, আমি মিশরে ফিরতে চাই। আমি মিশর এবং আমার দেশের মানুষদের মিস কির। আল্লাহ আপনাদের সংকল্পকে দৃঢ়তা দান করুন।”
আল জাজিরার মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষক ইহিয়া ঘানেম বলেন, তিনি “স্পষ্টতই” বিশ্বাস করেন যে শুক্রবারের বিক্ষোভ মিশরীয়দের মধ্যে বিভিন্ন স্তরের আবেগের প্রতিনিধিত্ব করে।
তিনি বলেন, “মিশরে এখন যা চলছে তা আসলে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত আন্দোলন … দেশকে স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য।”
লং আইল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও ওয়াশিংটনস্থ সেন্টার ফর গ্লোবাল পলিসির সিনিয়র ফেলো ডালিয়া ফহমি বলছেন, এসকল আন্দোল ২০১১ সালের বিপ্লব থেকে একেবারেই আলাদা।
ফাহমির মতে, যদিও জনগণ যে ভয়ের বাধা অতিক্রম করেছে তা ছিল বিস্ময়কর, তবে এটি প্রত্যাশিত ছিল।
তিনি বলেন, “আমরা যদি আজকের জনগণের দিকে থাকাই, লাখ লাখ মানুষের বয়সের গড় কিন্তু ২৩। এখন এর থেকে আপনি যদি ৮ বাদ দেন, তাহলে বিপ্লবের সময় এদের গড় বয় দাঁড়ায় ১৫ বছল।”
যখন আপনার বেশির ভাগ মানুষ বিপ্লব পরবর্তী ট্রমার স্মৃতির মধ্যে বসবাস করছে না। ফলে এক দল তরুণকে আপনি দেখতে পাবেন, যারা বিভিন্ন ধরনের দাবি-দাওয়া ও বিভিন্ন ধরনের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে আসছে। ফলে আট বছর আগে যারা আন্দোলন করেছিল তারা আর এখন যারা আন্দোলন করছে তারা একেবারেই আলাদা।”
শুক্রবারের আন্দোলন একদম বিরল একটি গণবিক্ষোভ ছিল। ২০১৩ সালে মিসরের প্রথম গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মুরসিকে পদচ্যুত করে তারই প্রতিরক্ষামন্ত্রী এল-সিসি রাষ্ট্রপতি হওয়াার পর থেকে সব ধরনের অননুমোদিত বিক্ষোভকে বেআইনি ঘোষণা করেন।
তাৎক্ষণিক মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, ন্যাশনাল টিভি এই ঘটনাসমূহের খবর প্রচার করেনি।
সরকারপন্থী একটি টিভি চ্যানেলের উপস্থাপক অবশ্য বলেছেন যে, আন্দোলনকারীদের ছোট্ট একটি দল মধ্য কায়রোতে সমবেত হয়েছিল সেখান থেকে সরার পূর্বে ভিডিও ও সেলফি তোলার জন্য। আরেকটি সরকারপন্থী চ্যানেলের দাবি, তাহরির স্কোয়ারের আশপাশ এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে।
২০১৪ সালে সিসি ক্ষমতায় আসার পর থেকে অর্থনৈতিক কৃচ্ছসাধন শুরু হয়েছে। মূলত ২০১১ সালের আরব বসন্তের পরের অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে উন্নতির জন্যই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু দারিদ্র আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।
জুলাই মাসে প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে মিসরে প্রতি তিন জনে এক জন মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করেন।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে যে, ২০১৮ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে সিসি ক্ষমতায় আসার পর থেকে “তার নিরাপত্তা বাহিনী ভয়-ভীতি প্রদর্শন, সহিংসতা, রাজনৈতিক বিরোধীদের এবং অ্যাক্টিভিস্টদের গ্রেফতারের অভিযান বৃদ্ধি করেছে।”
ইতোঃপূর্বে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা “মত প্রকাশের স্বাধীনতার উপর আক্রমণের” জন্য তাদের “গভীর উদ্বেগ প্রকাশ” করেছেন। তাদের উদ্বেগ প্রকাশের কারণসমূহের মধ্যে ছিল অসংখ্য ওয়েবসাইট ব্লক করা এবং বেআইনিভাবে সাংবাদিক ও বিরোধী মতাবলম্বীদের উপর হামলা চালানো ইত্যাদি।
সূত্র: আল জাজিরা ও অন্যান্য সংবাদ সংস্থা সমূহ
________________________________

আল জাজিরা ইংরেজি কর্তৃক প্রতিবেদনটি “In rare protests, Egyptians demand President el-Sisi’s removal” শিরোনামে প্রকাশিত। সংযুক্ত ছবিটি রয়টার্সের ফটো সাংবাদিকের তোলা, যা আল জাজিরার সংশ্লিষ্ট পাতা থেকে সংগৃহীত।


Happy

Happy

0 %


Sad

Sad

0 %


Excited

Excited

0 %


Sleepy

Sleepy

0 %


Angry

Angry

0 %


Surprise

Surprise

0 %

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments