Wednesday, June 16, 2021
0 0
Homeশীর্ষ খবরবরিস জনসনের রাজনৈতিক অভ্যুত্থান সফল হবে কি?

বরিস জনসনের রাজনৈতিক অভ্যুত্থান সফল হবে কি?

Read Time:10 Minute, 15 Second

আনাতোল কালেৎস্কি, প্রজেক্ট সিন্ডিকেট:
দীর্ঘ দিন থেকে চলে আসা যুক্তরাজ্য বনাম ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার ট্রাজেকমেডি অবশেষ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছেছে। ব্রেক্সিটের সময়সীমা হলো অক্টোবরের ৩১ তারিখ, অথচ বরিস জনসন প্রায় এই সময়সীমা পর্যন্তই সংসদ স্থগিত রাখার চাল চালিয়েছেন, সংসদের স্পিকার জন বের্কো এ বিষয়টিকে “ সাংবিধানিক তাণ্ডবলীলাবলে আখ্যায়িত করেছেন, যদিও এর একটা সুবিধাও আছে। এর ফলে ৬৫০ জন সংসদ সদস্যের সামনে এখন বাছাই করার মত মাত্র দুটো পথ রয়েছে। হয়তো সংখ্যাগরিষ্ঠ সাংসদ সেপ্টেম্বরের পয়লা সপ্তাহে বরিসের বদলে নতুন তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রীর জন্য ভোট দেবেন, অন্যথায় তাকে তার প্রতিশ্রুতি অনুসারে “চুক্তিবিহীন” ব্রেক্সিটের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমতা দিয়ে দিতে হবে, যা কিনা ব্রিটেনকে ইইউর সাথে সাংঘর্ষিক অবস্থানে নিয়ে যাবে। দোসরা পথ বেছে নিলে এটি আবার ইইউর ভবিষ্যতের উপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।  
তো, এখন কী হবে? সেপ্টেম্বরের পয়লা সপ্তাহে সাংসদরা যখন গ্রীষ্মকালীন অবকাশযাপন শেষে ফিরবেন, বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি কর্বিন নিশ্চয়ই জনসনকে ক্ষমতা থেকে সরাতে সংসদে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করবেন। কারণ জনসনের রক্ষণশীল এবং নর্দার্ন আইরিশ ডেমক্র্যাটিক ইউনিয়নিস্ট দল হাউজ অব কমন্সে মাত্র একটি ভোটে সমন্বিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এবং টরি পার্টির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য “চুক্তিবিহীন” ব্রেক্সিটের বিরোধী হওয়ার কারণে জনসনের হেরে যাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
কিন্তু জনসনকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট নয়। ২০১১ সালের স্থায়ী সংসদীয় আইন অনুসারে, কোন প্রধানমন্ত্রী যদি অনাস্থা ভোটে হেরে যান, তাহলে হয়তো সংসদকে অবশ্যই পরবর্তী ১৪ দিনের মধ্যে তার বদলে নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিতে হবে, অন্যথায় পরাজিত সরকারই থাকবে, এবং এই সরকার পরবর্তী তিনমাসের মধ্যে তাদের সুবিধামাফিক সময়ে সাধারণ নির্বাচনের আয়োজন করবে। তিন মাস সময় জনসনের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে “মরি, বাঁচি, ব্রেক্সিট” প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য যথেষ্ট। এই পরিণতি থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হচ্ছে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন, যেহেতু সংসদ স্থগিত হতে যাচ্ছে, তাই এ কাজটি করতে হবে ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই।
বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে কর্বিন ইতোমধ্যে নিজেকে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রস্তাব করেছেন; তিনি কেবলমাত্র দু’টি কাজ করার সীমাবদ্ধতাসহ সমর্থন চাচ্ছেন: ব্রেক্সিটের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং এরপর যথাশিগগিরই সাধারণ নির্বাচনের আয়োজন। কিন্তু ইইউপন্থী অনেক টরি দলীয় সদস্য কর্বিনের তীব্র বিরোধীতা করছেন, তাই তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তুলনামুলক কম পক্ষপাতি কেউ প্রার্থী হতে পারেন, যার কোন ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই। এক্ষেত্রে সাবেক টরি দলের চ্যান্সেলর কেনেথ ক্লার্ক প্রার্থী হতে পারেন, যিনি সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে সাংসদ থাকার কারণে “ফাদার অব দ্য হাউজ” হিসেবে আখ্যায়িত হয়ে থাকেন, কিংবা ২০১৫ সালে অন্তবর্তীকালীন লেবার নেতা হিসেবে দায়িত্বপালনকারী হ্যারিয়েট হার্মানও হতে পারেন।
অথবা কর্বিনকে পাশে সরিয়ে রাখার জন্য সম্ভবত সাবেক লেবার পার্টির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্গারেট বেকেটিই সবচেয়ে পছন্দের প্রার্থী হতে পারেন। সর্বোপরি বেকেট সেই ৩৬ জন সাংসদের মধ্যকার একজন, যারা কর্বিনকে লেবার দলীয় নেতা নির্বাচনের জন্য পিটিশন সাক্ষর করেছিলেন। তাঁর সমর্থন ব্যতীত কর্বিন আজ যেখানে আছেন, সেখানে পৌছাতে পারতেন না। কাজেই বেকেটকে সমর্থন করার বিষয়টি কর্বিন তাঁর সমর্থকদেরকে সহজে বুঝাতে পারবেন, যিনি আবার চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিটবিরোধী টরি দলীয় সাংসদদের সমর্থন সহজে পেতে পারবেন। যাই হোক, জনসনকে এভাবে পদচ্যুত করতে পরলে, অক্টোবরের শেষ দিকে কিংবা নভেম্বরে ভোটের আয়োজন করা সম্ভব হবে, এবং সে সময় পর্যন্ত ইউনিয়নে থাকতে হবে। (ইউরোপীয় নেতারা বারবার বলছেন যে, পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত ব্রেক্সিটের সময়সীমা বৃদ্ধি করা যেতে পারে।)
জনসনের “চুক্তিবিহীন” ব্রেক্সিটের পক্ষে এবং বিপক্ষে রক্ষণশীলরা গভীরভাবে বিভক্ত হয়ে পড়তে পারে। এদিকে বিরোধীদলগুলো সম্ভবত তাদের সাময়িক সহযোগিতামূলক ভাব থেকে কিছু রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করবে। এর ফলাফল হতে পারে “ঝুলন্ত সংসদ”, কোন দলই হয়তো নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারবে না। যাইহোক, এবার বোধ হয় লেবার, লিবারেল ডেমক্র্যাটস এবং স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি ভালোই প্রভাব-প্রতিপত্তি অর্জন করবে এবং সম্ভবত সকলে মিলে একটি চুড়ান্ত গণভোটের আয়োজন করতে হবে, ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া আর এগুবে কিনা, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য।
অন্যদিকে সাংসদরা যদি নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করতে ব্যর্থ হয়ে পড়েন, তাহলে সংসদ সেপ্টেম্বরের ১০ তারিখ থেকে স্থগিত হবে এবং জনসনের পছন্দসই ব্রেক্সিটে আর কোন বাধাই থাকবে না, “চুক্তিসহ কিংবা চুক্তি ছাড়া” যেভাবেই হোক, ব্রেক্সিট হবেই।
জনসন মনে করেন, সংসদ স্থগিত করার মাধ্যমে তিনি নয়া করে রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা থেকে যে অবাধ স্বাধীনতা পেয়েছেন, এর ফলে পূর্বসুরী থেরেসা মে’র ব্যর্থ প্রত্যাহার চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য দরকষাকষির ক্ষেত্রে তার সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। কতিপয় ইউরোপীয় নেতা সম্ভবত আশা করছিলেন, চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিটের ঝুঁকি নিতে সংসদ রাজি হবে না, এবং এটি প্রতিরোধ করতে সংসদ হস্তক্ষেপ করবে। এই সম্ভাবনা এখন আর নেই বললেই চলে। এই প্রেক্ষাপটে ইইউ চাইলে জনসনকে এরকম একটা ব্যবস্থার প্রস্তাব দিতে পারে, যাতে ব্রিটেন এবং ইইউর মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্কের বাধা দূর করার জন্য “আইরিশ ব্যাকস্টপ” বিধান প্রত্যাহার করা যেতে পারে, যাতে করে উত্তর আয়ারল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের মধ্যে উম্মুক্ত সীমান্ত অনুমোদন করে নতুন স্থায়ী বাণিজ্য চুক্তি হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আপাতত বাণিজ্য চলতে পারে।
জনসন হয়তো ঠিকই আছেন। চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিটের ফলে ব্রিটেন যেমন ক্ষতিগ্রস্থ হবে, ইইউও তেমনি চরম ক্ষতিগ্রস্থ হবে। কারণ যুক্তরাজ্য ইউরোপ মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার।
বিশেষত এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন একটি বাণিজ্য যুদ্ধে জড়িয়ে আছে, জার্মানি গাড়ি বিক্রিতে ধ্বস নামার ফলে অর্থনৈতিক মন্দার দ্বারপ্রান্তে, ফ্রান্স নাগরিক বিক্ষোভের কারণে উদ্বিগ্ন এবং ইতালি প্রকাশ্যে ইইউর নিয়মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করছে, এরকম একটি পরিস্থিতিতে ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম খদ্দেরের সাথে সম্পর্কের ফাঁটেলের ঝুঁকিটা বেশ বিজ্জনকই হতে পারে।
________________________________
নিবন্ধটি প্রজেক্ট সিন্ডিকেটে Will Boris Johnsons Political Coup Succeed? শিরোনামে প্রকাশিত। ভাষান্তর কর্তৃক সংক্ষেপে অনূদিত। সংযুক্ত ছবিটি প্রজেক্ট সিন্ডিকেটের সংশ্লিষ্ট পাতা থেকে সংগৃহীত।

Happy

Happy

0 %


Sad

Sad

0 %


Excited

Excited

0 %


Sleepy

Sleepy

0 %


Angry

Angry

0 %


Surprise

Surprise

0 %

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments