Monday, June 14, 2021
0 0
Homeশীর্ষ খবরচীন-মার্কিন ঠাণ্ডা যুদ্ধের বৈশ্বিক পরিণতি

চীন-মার্কিন ঠাণ্ডা যুদ্ধের বৈশ্বিক পরিণতি

Read Time:8 Minute, 18 Second

নুরিয়েল রুবিনি, প্রজেক্ট সিন্ডিকেট:
কয়েক বছর আগে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে পশ্চিমা প্রতিনিধি দলের একজন হিসেবে চীনের রাষ্ট্রপতি জি জিনপিং সাথে দেখা করেছিলাম আমাদের সাথে কথা বলার সময় রাষ্ট্রপতি জি বুঝিয়ে বলতে চান যে চীনের উত্থান হবে শান্তিপূর্ণ, অন্য কোন রাষ্ট্রের বিশেষতযুক্তরাষ্ট্রেরথুসিডাইডিসের ফাঁদ(থুসিডাইডিস ট্র্যাপ) নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কোন দরকার নাই থুসিডাইডিসের ফাঁদ এই পরিভাষাটি গ্রিক ঐতিহাসিক থুসিডাইডিসের নামে নামকরণ করা হয়েছে, উদীয়মান অ্যাথেন্স নিয়ে স্পার্টার ভীতি কীভাবে উভয় নগর রাষ্ট্রকে অনিবার্য যুদ্ধের দিকে নিয়ে গিয়েছিল, সে ইতিহাস এই ঐতিহাসিক লিখে গেছেন মূলত সেখান থেকেই এই ধারণার উদ্ভব
উভয় পক্ষই থুসিডাইডিসের ফাঁদ সম্পর্কে সচেতন হওয়া সত্ত্বেও চীন এবং যুক্তরাষ্ট্র যে কোনভাবে এই ফাঁদে পড়বে বলে মনে হচ্ছে যদিও উভয় পরাশক্তির মধ্যে গরম (প্রত্যক্ষ) যুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে নেই বললেই চলে, ঠাণ্ডা যুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি
চলমান উত্তেজনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র চীনকে দোষারোপ করছে এদিকে চীন মনে করে যুক্তরাষ্ট্রের মূল উদ্দেশ্য হলো চীনের যে কোন ধরনের উত্থান ঠেকানো কোন পক্ষের যুক্তি শক্তিশালী, সে তর্কে না গিয়েও বলা যায় অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, প্রযুক্তিগত এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা খুব সম্ভব অবশ্যম্ভাবী বাণিজ্যযুদ্ধ রূপে যে উত্তেজনার সূচনা, সেটি স্থায়ী দ্বিপাক্ষিক শত্রুতায় রূপ নিতে পারে এর প্রতিফলন দেখা যায় ট্রাম্প প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে, যেখানে চীনকে কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে, এবং সব ক্ষেত্রে চীনের মোকাবেলা করা দরকার বলে বিবেচনা করা হয়েছে
সে অনুসারে স্পর্শকাতর সেক্টরসমূহের চীনা সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের (ফরেন ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট) উপর যুক্তরাষ্ট্র কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, এবং কৌশলগত শিল্পসমূহ যেমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ৫জি ইত্যাদিতে পশ্চিমা কর্তৃত্ব নিশ্চিত করার জন্য আরো অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ইউরেশিয়ান দেশসমূহে অবকাঠামো নির্মাণের জন্য চীন যে বিশাল প্রকল্প হাতে নিয়েছে, সেই বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগে অংশগ্রহণ না করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র তাদের মিত্রদের উপর চাপ প্রয়োগ করছে সেই সাথে পূর্ব দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর টহল বৃদ্ধি পাচ্ছে, এদিকে বিতর্কিত অঞ্চলসমূহ দাবি করার ক্ষেত্রে চীন আরো বেশি আগ্রাসী হয়ে পড়ছে
চীনমার্কিন ঠাণ্ডা যুদ্ধের বৈশ্বিক পরিণতি সোভিয়েতমার্কিন ঠাণ্ডাযুদ্ধের তুলনায় আরো বেশি তীব্র হবে সোভিয়েত ছিল পতনশীল পরাশক্তি ব্যর্থ অর্থনৈতিক মডেলের দেশ, যেখানে চীন শিগগিরই বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে, এবং খুব সম্ভব অদূর ভবিষ্যতে তার উত্থান অব্যহত থাকবে তাছাড়া সোভিয়েত ইউনিয়ন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক বাণিজ্য ছিল খুবই সীমিত পরিসরে, যেখানে চীন পুরোপুরিভাবে বৈশ্বিক বাণিজ্যে জড়িত এবং বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রে সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত
ফলে পূর্ণমাত্রার ঠাণ্ডা যুদ্ধ নতুন মাত্রার বিবিশ্বায়ন (ডিগ্লোবালাইজেশন) করতে পারে; অন্ততপক্ষে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে দুটি ব্লকে বিভক্ত করে ফেলবে বহুধা বিভক্ত এ পৃথিবীতে চীন যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশই চাইবে অন্য সকল দেশ যেন যে কোন একটি পক্ষ গ্রহণ করে, কিন্তু সেসকল দেশের সরকার উভয় পক্ষের সাথে তাল মিলিয়ে ভালো অর্থনৈতিক সম্পর্ক রাখার চেষ্টা করবে সর্বোপরি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যতটা ব্যবসায় করছে, তার চেয়ে বেশি ব্যবসা (বাণিজ্য বিনিয়োগের দিক থেকে) করছে চীনের সাথে
যদিও ভবিষ্যৎ অর্থনীতিতে চীন যুক্তরাষ্ট্র উভয়দেশই কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা ৫জির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিসমূহ আলাদাভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে, ফলে সেখানে এরকম মাঝামাঝি অবস্থান ধরে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে প্রত্যেক দেশকেই বেছে নিতে হবে দুটি পক্ষের যে কোন একটিকে, এবং এর মধ্য দিয়ে বিশ্ব হয়তো আবার বিবিশ্বায়নের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রবেশ করবে
যাই হোক না কেন, এই শতাব্দির ভূরাজনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হবে চীনযুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক একটা পর্যায় পর্যন্ত তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব অবশ্যম্ভাবী কিন্তু আদর্শিক দিক থেকে উভয় পক্ষের উচিত হবে গঠনমূলকভাবে পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে চলা, কিছু কিছু ক্ষেত্রে পরস্পরকে সহযোগিতা করা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সুস্থ প্রতিযোগিতা করা
যদি এই সম্পর্ক ভুলভাবে চলতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র চীনের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ উত্থানকে দমন করার চেষ্টা করে এবং চীন আগ্রাসীভাবে এশিয়া বিশ্বের অন্যত্র তার প্রভাব বিস্তার করে তাহলে একটি পূর্ণমাত্রা ঠাণ্ডাযুদ্ধ সংগঠিত হবে এবং একটি গরম যুদ্ধ (অথবা এক গাদা প্রক্সি যুদ্ধ) এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না হয় তো একবিংশ শতাব্দিতে থুসিডাইডিসের ফাঁদ শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর চীনকে নয়, বরং পুরো পৃথিবীকেই হয়তো গ্রাস করে ফেলবে
________________________________

লেখক: নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্লিন্টনের আমলে এই ভদ্রলোক হোয়াইট হাউজে অর্থনীতিবিদ হিসেবে কাজ করতেন তাঁর লেখাThe Global Consequences of a Sino-American Cold Warশীর্ষক নিবন্ধটি প্রজেক্ট সিন্ডিকেটে প্রকাশ হয়েছে ভাষান্তর কর্তৃক সংক্ষেপে অনূদিত

Happy

Happy

0 %


Sad

Sad

0 %


Excited

Excited

0 %


Sleepy

Sleepy

0 %


Angry

Angry

0 %


Surprise

Surprise

0 %

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments