Tuesday, September 21, 2021
0 0
Homeশীর্ষ খবরইসরায়েল কেন এখনো নেতানিয়াহুকে পছন্দ করে?

ইসরায়েল কেন এখনো নেতানিয়াহুকে পছন্দ করে?

Read Time:9 Minute, 56 Second

শ্যামুয়েল রোসনার, নিউ ইয়র্ক টাইমস:
নেতানিয়াহুকে অপছন্দ করার কারণ খুব অল্প নয় তিনি আত্মমগ্ন এবং প্রতিহিংসাপরায়ণ হতে পারেন রাজনৈতিক শত্রুদের বিরুদ্ধে তিনি নির্মম হতে পারেন তিনি ভিন্ন তিনটি মামলায় দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত, এসকল মামলা যদি সঠিক হয়, তাহলে তার মানে হলো তিনি একজন লোভী, দাম্ভিক ক্ষমতার অপব্যবহারকারী
এবং এসব কিছু সত্ত্বেও, এই অপছন্দনীয় প্রধানমন্ত্রী গত (মঙ্গলবার) রাতে পঞ্চমবারের হ্যাঁ পঞ্চমবারের  মতো প্রধানমনন্ত্রিত্ব করার জন্যে বিজয়ী হয়েছেন আগামী সপ্তাহে তিনি যদি সরকার গঠন করেন, সরকার গঠন করাই প্রত্যাশিত, তাহলে তিনি দীর্ঘকাল প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করার দিক থেকে ইসরায়েলের প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড বেনগুরিয়নের রেকর্ড ভঙ্গ করবেন কীভাবে এটা সম্ভব?
সত্য কথা হলো লড়াইটা খুবই হাড্ডাহাড্ডি ছিল প্রধান বিরোধী দল তথা নীলসাদা দল নেসেটে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সমান আসন পাচ্ছে বলে আশা করা হচ্ছে তার জোট সম্ভবত ন্যূনতম প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের চেয়ে সামান্য বেশি আসন পাবে
নেতানিয়াহুর অপ্রীতিকর অনেক বৈশিষ্ট্যের দরুণ অনেকেই তাকে পরাজিত করতে চাচ্ছিলেন নির্বাচনের মাত্র এক মাস পূর্বে তিন জেনারেল এক সাবেক নিরাপত্তা মন্ত্রীর নেতৃত্বে নতুন মধ্যপন্থী জোট নীলসাদা জোট আত্মপ্রকাশ করে, ২০০৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা নেতানিয়াহুর বিকল্প দাঁড় করানো ছাড়া জোটের আর তেমন বড় কোন লক্ষ্য ছিল না তারা ভীষণভাবে, কিন্তু ভদ্রতার সাথে তাদের প্রচারণা চালান নীলসাদা জোটের প্রধান জেনারেল বেনি গান্টজ তার সমাবেশসমূহে জাতির সেবা করার জন্য নেতানিয়াহুকে ধন্যবাদ দেওয়াটাকে তার অভ্যাসে পরিণত করেন, তবে এটা ছিল নেতানিয়াহু লিকুদ পার্টির উপর নাম ধরে ধরে ব্যক্তিগত আক্রমণের ছায়া মাত্র কিন্তু ভদ্রতা আর মধ্যপন্থা বিজয় অর্জনের জন্য যথেষ্ট নয়
নেতানিয়াহু রুঢ় প্রকৃতির মানুষ হতে পারেন, তবে তিনি ভোট ডাকাতি করেন নি তিনি সুষ্ঠুভাবেই বিজয়ী হয়েছেন, যদিও তাতে অনেক বিপত্তি পোহাতে হয়েছে এর মধ্যে রয়েছে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগ, তার দশকব্যাপী নেতৃত্বের দুর্বোধ্য গ্লানি, এর বাইরে দলের ভিতেরবাইরের কোন্দল তো আছেই কিন্তু তিনি আবারো সফল হতে চলেছেন সেই একই কারণে, যে কারণে গত ২৫ বছরের বেশির ভাগ সময়ই তিনি ইসরায়েলকে নিয়ন্ত্রণ করেছেন কারণটা হলো: ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে তিনি একজন দুরদৃষ্টি সম্পন্ন কৌশলী নেতা আর অনেক ভোটারই এই বিষয়টিকেই গুরুত্ব দেন
১৯৯০ এর দশকের মাঝামাঝিতে, তার প্রথমবারের প্রধানমন্ত্রিত্বের সময় নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনিদের সাথে শান্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কে মূল ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করেন সময়ে এটাকে দুঃসাহসী ডানপন্থা বলে মনে করা হতো বর্তমানে এটি ইসরায়েলে খুবই স্বাভাবিক বিষয়, এমনকি নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক বিরোধীদের নিকটও এটি স্বাভাবিক বাস্তবতা অনুরূপভাবে, নেতানিয়াহু ছিলেন ইসরায়েলেরে প্রথম নেতাদের একজন, যারা ইরানকে ইসরায়েলের টিকে থাকার জন্য প্রধান হুমকি হিসেবেন চিহ্নিত বরেছিলেন, এবং তিনি সমস্যার প্রতি বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য ভীষণভাবে লড়ছিলেন আজকের ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে এটিও ব্যাপকভাবে প্রশংসিত এবং স্বীকৃত বিষয়
তালিকায় আরো অনেক কিছু আছে ২০০৫ সালে তিনি সতর্ক করেছিলেন যে গাজা থেকে ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহার বিপজ্জনক হতে পারে, এবং তা হয়েছিলও তিনি সফলভাবে আট বছর ধরে ফিলিস্তিনিদেরকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে ওবামা প্রশাসনের চাপকে প্রতিহত করেছিলেন তিনি খুব কম সময়ের মধ্যে ট্রাম্পের সাথে মিত্রতা গড়ে তুলেন, এবং এটা এখন প্রমাণিত যে মিত্রতা ইসরায়েলের বিশাল উপকার করেছে দুই বছরের মধ্যে ট্রাম্প সাহেব তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তরিত করেছে, ইরানের সাথে পরমাণু চুক্তি প্রত্যাহার করেছেন, গোলান মালভূমিতে ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দিয়েছেন, এবং সোমবারে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন
নীলসাদা দল নির্বাচনকে নেতানিয়াহুর পক্ষেবিপক্ষে একটি গণভোটে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করেছিল তাদের প্রচারণায় প্রধানত গুরুত্ব পেয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ব্যর্থতা, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এবং তার নেতৃত্বের নির্জীবতা ইত্যাদি কিন্তু ইসরায়েলে নিরাপত্তার চেয়ে বড় আর কোন তুরুপের তাস নেই (নির্বাচনপূর্ব একটি জরিপে দেখা গেছে, ভোটাররা নিরাপত্তাকে তাদের প্রথম গুরুত্বের বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন)
নীলসাদা দল ভেবেছিল, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষবাহিনীর সাবেক প্রধানকে নেতৃত্বে রাখলে কূটনৈতিক সামরিকভাবে ইসরায়েলের রক্ষাকর্থা হিসেবে নেতানিয়াহুর ভাবমূর্তি অভিজ্ঞতার সাথে পাল্লা দেওয়া যাবে কিন্তু জনগণ দেখিয়ে দিয়েছে যে তারা দায়িত্বরত নেতাকেই বেশি বিশ্বাস করে
নিরাপত্তার প্রশ্নে নেতানিয়াহু কি কখনো ভুল করেছিলেন? বাস্তবতা হলো, বেশির ভাগ ইসরায়েলির জন্যই একম একটা উদাহরণের কথা চিন্তা করাও কঠিন এটি যে শুধু ভোটারদেরকে লিকুদ পার্টিকে ভোট দেওয়ার বিষয়ে কিংবা ডানপন্থী দলগুলোকে লিকুদ পার্টির পরবর্তী সরকারে যোগদানে উৎসাহিত করেছে, তাই নয়, বরং প্রতিদ্বন্দ্বী নীলসাদা দলও গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে নেতানিয়াহুর নীতিরই প্রতিধ্বনি করতে বাধ্য করেছে
যে সকল ইসরায়েলি নেতানিয়াহুর পতন চান এবং হ্যাঁ, এমন অনেক ইসরায়েলি আছেন যারা নেতানিয়াহুর পতন চান, তবে সেটা তার ব্যক্তিত্বের কারণে, ইসরায়েলি রাজনৈতিক অঙ্গনকে অমসৃণ করে তোলার কারণে, এবং সম্ভবত তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের কারণে আর যে সকল ইসরায়েলি চান নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকুন নির্বাচনের ফলাফল বলছে তারা সংখ্যায় অনেক তারাও এটা চাচ্ছেন তার এসব বৈশিষ্ট্য থাকা সত্ত্বেও, জেনেশুনে তারা তাদের প্রধানমন্ত্রী মানুষ হিসেবে একজন ছোটলোক হওয়াটাকে ক্ষমা করে দিতে পারেন, কারণ তারা একজন মহান নেতা হিসেবে তার ভক্ত
________________________________

লেখাটি নিউ ইয়র্ক টাইমসের অনলাইন সংস্করণে দশ এপ্রিল, দুই হাজার উনিশ ইসায়িতেWhy Israel Still Loves Netanyahu শিরোনামে প্রকাশিত হয় লেখক দ্য জুয়িশ জার্নালের রাজনৈতিক সম্পাদক এবং জুয়িশ পিপল পলিসি ইনস্টিটিউটের সিনিয় ফেলো ছবি নিউ ইয়র্ক টাইমস থেকে সংগৃহীত

Happy

Happy

0 %


Sad

Sad

0 %


Excited

Excited

0 %


Sleepy

Sleepy

0 %


Angry

Angry

0 %


Surprise

Surprise

0 %

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments