Wednesday, September 22, 2021
0 0
Homeমধ্যপ্রাচ্যফিলিস্তিনিদের কোন দেশ নাই

ফিলিস্তিনিদের কোন দেশ নাই

Read Time:9 Minute, 10 Second

দাউদ কুত্তাব, প্রজেক্ট সিন্ডিকেট:
অদ্ভুত একনির্বাচনী প্রচারণায় গরম হয়ে আছে ইসরায়েলের রাজনীতির মাঠ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তথা ফিলিস্তিনি অঞ্চলের ভূমি দখল এর কোন আলেচনাই নেই নির্বাচনী মাঠে। প্রার্থীরা তার বদলে ফিলিস্তিনিদের উপর কে কার থেকে বেশি কঠোর হতে পারবেন, সে প্রতিযোগিতায় মত্ত।
সবচেয়ে বড় হুমকিটি আসছে নেতিনিয়াহুর তরফ থেকে। শঠতা, ঘোষ গ্রহণ আর বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগের মধ্য দিয়েই যেহেতু তিনি তার রাজনৈতিক জীবনের জন্য লড়ে যাচ্ছেন, ফলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে তিনি নিজের অবস্থান শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে তার বিশাল ক্ষমতার (তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন) অপব্যবহার করে হয়তো ইসরায়েলে অভ্যন্তরে এবং আশেপাশে উত্তেজনা বৃদ্ধি করবেন।
এসব আশঙ্কা নিরসন দূরে থাক, তিনি উল্টা এগুলোর পিছনে আরো ইন্ধন জোগাচ্ছিলেন। তিনি আবারো ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান জেরুজালেমের আল হারাম আল শরিফ/আল আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণের বাব আল রাহমাহ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। ‍উল্লেখ্য যে এই প্রাঙ্গণটি ইউনেস্কর বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ, মুসলমানরা ১৪ শত বছরেরও বেশি সময় এটির প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছে।
বাব আল রাহমাহ বন্ধ করার কোন আইনসঙ্গত কারণ নেই। ভবনটি ২০০৩ সালে সিলগালা করে দেওয়া হয়েছিল, কারণ এটি ইসলামিক হেরিটেজ কমিটির প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। এই কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন কট্টর ইসলামি শায়খ (এবং ইসরায়েলের নাগরিক) রায়েদ সালাহ। কিন্তু এই কারণটি এখন আর প্রাসঙ্গিক নয়: সালাহ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আল আকসায় পা রাখেন নি, এবং ইসলামিক হেরিটেজ কমিটি বহু আগেই ভেঙে গেছে।
এতদসত্ত্বেও নেতিনিয়াহুর জন্য যে কোন অযৌক্তিক অজুহাতই যথেষ্ট। তার চরমপন্থী অনুসারীরা চায় ইসরায়েল বাব আল-রাহমার স্থানে সিনেগাগ নির্মাণের জন্য এক ধাপ এগিয়ে যাক। নেতিনিয়াহু উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটারের নিকট তার রাজনৈতিক পুঁজি বৃদ্ধির প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এসকল চরমপন্থীর দাবি নীরবে মেনে নিচ্ছেন। একই কারণে নেতিনিয়াহু অন্যান্য এলাকাসমূহে যেমন গাজা, দক্ষিণ লেবানন অথবা ইরান কিংবা সিরিয়ায় ইরান সমর্থিত বাহিনীর সাথে সঙ্ঘাত সৃষ্টি রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক বলে মনে করছেন।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে নেতিনিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী লেফট্যানেন্ট জেনারেল বেনি গ্যান্টজ মোটেও পছন্দসই বিকল্প নন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাবেক প্রধান জেনারেল বেনি একটি ডানপন্থী জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি এর আগে তার ফিলিস্তিন বিদ্বেষের প্রমাণ দিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ ২০১৪ সালের ঘটনা বলা যেতে পারে, তার সেনাপতিত্বে একটি অভিযানে আইডিএফ গাজার বিভিন্ন অংশকে “প্রস্তর যুগে ফেরত” পাঠিয়েছিল। সে অভিযানে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি মারা গেছে, আহত হয়েছে এবং গৃহহারা হয়েছে।
এরপর রয়েছে সম্প্রতি গঠিত হায়ামিন হেহাদাশ পার্টি, যেটির নেতৃত্ব আছেন যথাক্রমে বিদায়ী শিক্ষা ও বিচার মন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও আয়েলেত শাকেদ। বেনেট ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে তিনি দখলিকৃত পশ্চিমতীরের ৬০ শতাংশেরও বেশি ইসরায়েলের অন্তর্ভূক্ত করতে চান। শাকেদও পশ্চিম তীরের বেশির ভাগ অংশ দখল অন্তর্ভূক্ত চান। এবং, সম্ভাব্য বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমের উপর এক অদ্ভুত আক্রমণ করে তিনি সম্প্রতি “ফ্যাসিজম” পার্ফিউমের একটি বিদ্রূপাত্মক বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি ঘোষণা করেছেন যে “তার নিকট এটির ঘ্রাণ গণতন্ত্রের মতো মনে হচ্ছে।”
নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রধান দলসমূহ যে সকল কাজ করতে অনিচ্ছুক, সেগুলো তাদের জানা আছে বলেই মনে হচ্ছে, সেগুলো হলো: দখলদারিত্বের অবসান, জেরুজালেম ভাগকরণ, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের স্বদেশপ্রত্যাবর্তনের অধিকার।
বল এখন এমন লোকদের নিকট, যাদের কেউই সংকটের সমাধান চায় না। সর্বোপরি সরকারের নীতি যখন তাদের নির্বাচনী প্রচারণার অঙ্গীকার থেকে আলাদা হয়, এবং আগ্রাসী উচ্চাভিলাসের মাধ্যমে একটি নির্বাচনে বিজয়ী হয়, তখন এমনকি এরকম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শান্তি প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিলেও তার হাত বাধা থাকে।
প্রায় চার মিলিয়ন ফিলিস্তিনির উপর দখলদারিত্বের অবসানে শুধু ইসরায়েলি নেতারাই যে অনিচ্ছুক, তা নয়। ট্রাম্প সাহেবের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্রও তাদের বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে গাজা, পশ্চিম তীর ও গোলান মালভূমির নামের সাথে পাঁচ দশক থেকে লেগে থাকা “দখলীকৃত” আখ্যাটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন দাবি করছে এসব অঞ্চল শুধুমাত্র ইসরায়েল “নিয়ন্ত্রিত” (দখলীকৃত নয়)। যুক্তরাষ্ট্রের এই মনোভাব ইসরায়েলি নেতাদের সমস্যা সমাধানের ইচ্ছাকে আরো দুর্বল করবে। ইসরায়েল কর্তৃক গোলান মালভূমি নিজেদের ভূখণ্ডে সংযুক্ত করাকে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে ট্রাম্প দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো জোরপূর্বক জমি দখলকে বৈধতা দিলেন।
ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচন জনগণকে যুদ্ধ ও শান্তির মধ্য থেকে যে কোন একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া দরকার ছিল। তার বদলে ইসরায়েলিরা যুদ্ধ এবং আরো বেশি যুদ্ধ, দখলদারিত্ব এবং আরো বেশি দখলদারিত্বের মধ্য থেকে যে কোন একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে, এমনকি যদিও প্রার্থীরা এই পরিভাষাগুলোর ব্যবহার এড়িয়ে চলছেন। এবং এখনো এই বাস্তবতা বিদ্যমান যে, দুই-রাষ্ট্র সমাধান কিংবা একই রাষ্ট্রের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগি, যেখানে সকল নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবে, এ দুই সমাধানের কোন একটি ছাড়া এ অঞ্চল সহিংসতার বেড়াজালে আবদ্ধ থাকবে।  
________________________________

নিবন্ধটির লেখক প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এবং ইন্টারন্যাশনাল প্রেস ইনস্টিটিউটের প্রেস ফ্রিডম কমিটির প্রধান। নিবন্ধটি প্রজেক্ট সিন্ডিকেটে “No Country for Palestinians” শিরোনামে প্রকাশিত হয়। ছবি প্রজেক্ট সিন্ডিকেট থেকে সংগৃহীত।


Happy

Happy

0 %


Sad

Sad

0 %


Excited

Excited

0 %


Sleepy

Sleepy

0 %


Angry

Angry

0 %


Surprise

Surprise

0 %

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments