Wednesday, September 22, 2021
0 0
Homeশীর্ষ খবরপ্রিয় ডেমক্র্যাট সাংসদবৃন্দ, রবার্ট মুলার অভিশংসনের পথ দেখিয়ে দিলেন...

প্রিয় ডেমক্র্যাট সাংসদবৃন্দ, রবার্ট মুলার অভিশংসনের পথ দেখিয়ে দিলেন…

Read Time:13 Minute, 46 Second


মেহদি হাসান, দ্য ইন্টারসেপ্ট:

প্রিয় ডেমক্র্যাট সাংসদবৃন্দ!
আপনারা আমাদেরকে ধৈর্যধারণ করতে বলেছিলেন। বলেছিলেন আমরা যেন সতর্ক হই। আপনারা আমাদেরকে বলেছিলেন রবার্ট মুলারের জন্য অপেক্ষা করতে।

ভালো কথা, অপেক্ষার সময় শেষ হয়ে গেছে। এবং অভিশংসনের জন্য শুনানির মুহূর্ত এসে গেছে।

মিথ্যাবাদী অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার স্পেশাল কাউন্সিলের প্রতিবেদন প্রকাশের পূর্বে সেটিকে সংক্ষিপ্ত করার এবং ঘুরিয়ে ফেলার জন্য বারংবার চালিয়ে যাওয়া তার অসৎ চেষ্টাকে ভুলে যান।

এখন আপনাদের হাতে পুরো প্রতিবেদনটাই আছে, এবং এমনকি “সামান্য সম্পাদিত” ৪৪৮ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনটি আপনাদেরকে সবিস্তারে পরিষ্কারভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিশংসন করার পথ-ঘাট দেখিয়ে দিচ্ছে। সেটা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের আর্টিকেল ২, সেকশন ৪ অনুসারেই সম্ভব: “যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং সকল সরকারি কর্মকর্তা তাদের কার্যালয় থেকে অভিসংশনের মাধ্যমে অপসারিত হবেন, যদি তারা বিশ্বাসঘাতকতা, ঘোষগ্রহণ অথবা অন্য কোন গুরুতর অপরাধ এবং অসৎকর্মের কারণে অপরাধী সাব্যস্ত হয়।

স্পেশাল কাউন্সিল রবার্ট মুলারের কথা শুনুন: “প্রেসিডেন্ট আর্টিকেল ২ এর অধীনে বিচার বিভাগের কাজে বাধা সৃষ্টি করছেন কি না, তা বিবেচনা করে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা বজায় রাখার স্বার্থে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা অপপ্রয়োগ প্রতিহত করার কর্তৃত্ব কংগ্রেসের আছে।”তিনি এর সাথে আরো যোগ করেন, “শেষ কথা হলো, আমাদের জবাবদিহিমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ সাংবিধানিক ব্যবস্থা এবং ‘কোন ব্যক্তি আইনের উর্ধ্বে নয়’ এই মূলনীতির আলোকে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার অপপ্রয়োগের বিরুদ্ধে কংগ্রেস আইনের প্রয়োগ করতে পারে।”

বুচ্ছেন বিষয়? স্পেশাল কাউন্সিল যিনি বিচার বিভাগের কাজে সম্ভাব্য বাধা সৃষ্টির ১১টি উদাহরণ তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন এবং প্রেসিডেন্টকে দায়মুক্তি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায় দৃঢ়ভাবে আপনাদের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। এই সেই অভিশংসনের সুপারিশ, আপনাদের দাবি অনুযায়ী যেটির জন্য আপনারা অপেক্ষা করছিলেন এতো দিন।

মুলারের মতে ট্রাম্প সাহেব হয়তো ২০১৬ সালের নির্বাচনে রাশিয়ার নাক গলানোর সাথে সম্পর্কিত “অন্তর্নিহিত অপরাধ” করেন নি, কিন্তু অভিশংসনের বিষয়ে এটি একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক।

১৯৯৯ সালে সিনেটে বিল ক্লিন্টনের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনার জন্য পাঠানো ১৩ জনের মধ্য থেকে এক জনের বক্তব্য শুনুন: “এই সাংবিধানিক রিপাব্লিকে আপনার চাকরি (প্রেসিডেন্ট হিসেবে) হারানোর জন্য এমনকি কোন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ারও দরকার নেই, যদি এই কর্তৃপক্ষ মনে করে যে একজন গণকর্মকর্তা হিসেবে আপনার আচরণ সীমালঙ্ঘন করেছে, (তাহলেই আপনি অপসারিত হতে পারেন।) এ কথাগুলো বলেছিলেন তৎকালীন রিপাব্লিক রিপ্রেজেন্ট্যাটিভ এবং বর্তমান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। তিনি যুক্তি দেখান যে অভিশংসনের প্রক্রিয়া “প্রেসিডেন্টের দফতরের মর্যাদা ও স্বচ্ছতা পুনরুদ্ধার করার জন্য দরকার”।

এটি আপনাদের দায়িত্ব আপনাদের বাধ্যবাধকতা! রাষ্ট্রপতির দফতের মর্যাদা ও স্বচ্ছতা আপনাদেরকে অবশ্যই পুনরুদ্ধার করতে হবে।

আপনাদের রিপাব্লিকান ও ডেমকক্র্যাটিক পূর্বসূরীদের কথা শুনুন, যারা ১৯৭৪ সালের জুলাই মাসে সংসদের জুডিসিয়ারি কমিটতে কাজ করেছেন এবং প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের বিরুদ্ধে অভিশংসনের জন্য তিনটি প্রবন্ধ প্রকাশ করেছিলেন। প্রথম প্রবন্ধটি ন্যায়বিচারে প্রতিবন্ধকতার উপর গুরুত্বারোপ করে এবং রাষ্ট্রপতি কর্তৃক “যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার উদ্দেশ্যে মিথ্যা অথবা বিভ্রান্তিকর বিবৃতি জনসম্মুখে প্রকাশ করার”বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। এ প্রবন্ধে “সম্ভাব্য প্রতিবাদী ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করে দোষী সাব্যস্ত করা, নীরবতা অথবা মিথ্যা সাক্ষ্যের বিনিময়ে সুবিধাজনক আচরণ প্রত্যাশা করা, অথবা নীরবতা কিংবা মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তিকে পুরষ্কৃত করার”জন্য নিক্সনের প্রচেষ্টার কথাও উল্লেখ করা হয়।

আমি আপনাদের যে কারো প্রতি স্পেশাল কাউন্সিলে প্রতিবেদন পড়ে প্রেসিডেন্ট বারবার মিথ্যা বলেন নি, এমন সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার চ্যালেঞ্চ ছুড়ে দিচ্ছি। তিনি ২০১৬ সালের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ সম্পর্কে মিথ্যা বলেছেন; তিনি মিথ্যা বলেছেন তার নির্বাচনী প্রচারণার সময় রাশিয়ানদের সাথে যোগাযোগ সম্পর্কে। জুন ২০১৬ তে অনুষ্ঠিত ট্রাম্প টাওয়ারের অখ্যাত সেই বৈঠকের কথাই ধরুন। প্রেসিডেন্ট ব্যক্তিগতভাবে তার ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের তরফ থেকে একটি বিবৃতির নির্দেশনা (ডিক্টেশন) দিয়েছেন, যে বিবৃতিটিতে দাবি করা হয়েছে যে এক রাশিয়ান আইনজীবী ও আরেক ব্যক্তি “রাশিয়ান শিশুদেরকে দত্তকগ্রহণের বিষয়ে” প্রাথমিক আলোচনা করার উদ্দেশ্যে ট্রাম্প টাওয়ারে বৈঠক করেছিলেন। যাই হোক, সে বৈঠকের উদ্দেশ্য সম্পর্কে মুলার সাহেব যা বলেছেন, তা হলো: “নির্বাচনী প্রচারণাকারীরা রাশিয়ার পক্ষ থেকে এমন তথ্য প্রত্যাশা করছিলেন, যা প্রার্থী ট্রাম্পের নির্বাচনী কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারতো, কিন্তু রাশিয়ান সেই আইনজীবী তার উপস্থাপনায় এমন কোন তথ্য প্রদান করেন নি।”

আমি আরো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছি, আপনাদের মধ্য থেকে যে কেউ স্পেশাল কাউন্সিলের প্রতিবেদেনটি পড়ে এ কথাটি প্রমাণ করুন যে প্রেসিডেন্ট রাশিয়া বিষয়ক তদন্তের সময় সাক্ষী এবং প্রতিবাদীদেরকে “সুবিধাজন আচরণ” ও “পুরস্কারের” প্রলোভন দেখান নি এবং এরকম কোন চেষ্টা করেন নি, নিক্সন যেমনটা করেছিলেন।

সাবেক রিপ্রেজেন্টেটিভ এলিজাবেথ হল্টযম্যান, যিনি ১৯৭৪ সালে সংসদীয় জুডিসিয়ারি কমিটিতে কাজ করেছিলেন, এবং সম্প্রতি The Case for Impeaching Trump.নামে একটি বই লিখেছেন, তার কথা শুনুন, গত বৃহস্পতিবারে তিনি আমাকে ফোনে বলেন, “পূর্ববর্তী নিক্সনের ঘটনার আলোকে, মুলারের প্রতিবেদনের সাক্ষ্য এই দাবিটিকে জোরদার করে যে ট্রাম্প অভিশংসনের মুখোমুখি হওয়ার উপযুক্ত হওয়ার মতো অপরাধ করেছেন। তিনি আরো বলেন, ট্রাম্প ও নিক্সনের মধ্যে সমান্তরাল বিষয়টি হলো “উভয়েউেআগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী।”

দেখুন, আমি বুঝতে পেরেছি। আপনারা ভয় পাচ্ছেন। আপনারা আপনাদের রিপাব্লিকার প্রতিদ্বন্দ্বীদের তরফ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়ার ভয় পাচ্ছেন। আপনারা সিনেটে পরাজিত হওয়ার ভয় পাচ্ছেন, সেখানে এখন অবধি ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা আপনাদের নেই। আপনারা ভয় পাচ্ছেন যে, অভিশংসনের শুনানি আপনাদের ২০২০ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রচারাভিযানে বাধা সৃষ্টি করবে।

কিন্তু আপনাদের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো গণতন্ত্র সংরক্ষণ করা এবং আইনের শাসনকে রক্ষা করা। সংবিধানের মাধ্যমে আপনাদেরকে এই দায়িত্বই দেওয়া হয়েছে। মার্কিন জনগণও আপনাদের নিকট থেকে এটাই প্রত্যাশা করছে। আপনারা এর থেকে দূরে সরে যেতে পারেন ন।

সংসদে আপনাদের নেতা স্পিকার ন্যান্সি পেলসি গত মাসে বলেছিলেন মুলারের প্রতিবেদন প্রকাশ করার আগ মুহূর্তে তিনি বিশ্বাস করেন যে ট্রাম্পকে অভিশংসন করার “উপযুক্ত হন নি।” দুঃখিত, কী বললেন? যদি একজন প্রেসিডেন্ট বারবার নির্লজ্জভাবে মার্কিন জনমণকে বিভ্রান্ত করেন; যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিদেশি সরকারের হস্তক্ষেপকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি সেখান থেকে সুবিধা আদায়েরও চেষ্টা করেন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে ন্যায় বিচারে বাধা সৃষ্টি করেন; এবং এছাড়াও আমরা খুব কম সংখ্যক মানুষই সেটা ভুলেছি! নব্য নাৎসিদের প্রশংসা করে বলেন “তারা খুবই ভালো মানুষ,” এবং এরপরও সেই প্রেসিডেন্ট অভিশংসনের যোগ্য না হন, তবে … কোন প্রেসিডেন্ট অভিশংসনের যোগ্য?

এবং, তাহলে সংবিধানের আর্টিকেল ২, সেকশন ৪ এর উদ্দেশ্য কী? এই বিধ্বংসী প্রতিবেদনের জবাবেও যদি আপনারা যদি প্রেসিডেন্টকে তার দায়িত্ব থেকে অপসারণ করতে না চান, তাহলে হয়তো অভিশংসনের বিধানই সংবিধান থেকে সরিয়ে দিতে পারেন। যদি ট্রাম্প নয়, তবে কে?

স্পেশ্যাল কাউন্সিলের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৭ সালের মে মাসে মুলারকে নিয়োগ দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প চিৎকার করে বলেছিলেন, “হা ইশ্বর! এটা ভয়াবহ। এটা আমার রাষ্ট্রপতিত্বের সমাপ্তি। আই অ্যাম ফা*ড.”

ভালো কথা, ডেমক্র্যাট সাংসদ বৃন্দ, বাস্তবতা হলো আপনারা আপনাদের কাজ না করা পর্যন্ত তিনি ফা*ড হবেন না।
আপনাদের বিশ্বস্ত,
মেহদি হাসান
________________________________
মেহদি হাসান দ্য ইন্টারসেপ্টের নিয়মিত কলামিস্ট। এছাড়াও তিনি আল জাজিরার হেড টু হেড এবং আপফ্রন্ট নামে দুইটি জনপ্রিয় অনুষ্ঠানের উপস্থাপক। আছে আরো অনেক পরিচয়। তবে আল জাজিরার দুটি অনুষ্ঠানের সুবাদেই তিনি বাংলাদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়। “Dear Democrats: Mueller Just Handed You a Road Map for Impeachment. Follow It.” শিরোনামে প্রকাশিত খোলা চিঠি ধরনের এই কলামটি ইন্টারসেপ্টেই প্রকাশিত হয়। ছবি: ইন্টারসেপ্ট থেকে সংগৃহীত।

Happy

Happy

0 %


Sad

Sad

0 %


Excited

Excited

0 %


Sleepy

Sleepy

0 %


Angry

Angry

0 %


Surprise

Surprise

0 %

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments