Wednesday, August 4, 2021
0 0
Homeশীর্ষ খবরভেনিজুয়েলায় দ্রুত আপোস জরুরি...

ভেনিজুয়েলায় দ্রুত আপোস জরুরি…

Read Time:13 Minute, 13 Second

ফ্রান্সিসকো রদ্রিগুয়েজ ও জেফরি ডি. সেচস, নিউ ইয়র্ক টাইমস:
সপ্তাহ দুয়েক ধরে লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশের সমর্থন নিয়েযুক্তরাষ্ট্র ন্যাশনাল অ্যাসেমব্লির প্রেসিডেন্ট জুয়ান গুয়াইদোর সরকারকে সমর্থন দিয়েছে তেল থেকে দেশটির যে আয় হয়, সেই আয়ের কর্তৃত্বও গুয়াইদো সরকারকে দিয়ে দিয়েছে এর মাধ্যমে ভেনিজুয়েলার সেনাবাহিনীকে একটি কঠিন বিপদে ফেলে দেওয়া হয়েছে, তাদেরকে অবশ্যই যে কোন একটি পথ বেছে নিতে হবে হয়তো প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ত্যাগ করতে হবে, নতুবা ভেনিজুয়েলার অর্থনীতিকে কঠিন সংকটের মুখোমুখি হতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের বার্তাটা বেশ কড়া: হয় শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করো, নয়তো ক্ষুধায় মরো

যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্বভাবসুলভ সাহস নিয়েই কাজ করছে, তাদের ধারণা সবকিছু শিগগিরই ঠিকটাক হয়ে যাবে, মাদুরো পদত্যাগ করবেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে, যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলা উভয়ই লাভবান হবে ভেনিজুয়েলার ভিতরেবাইরে অনেকেই মাদুরোকে পছন্দ করেন না, ফলে অনেকগুলো দেশ ট্রাম্প প্রশাসনের এই দাবার চালের পক্ষেই আছে, আপাতত ক্ষতির কারণ হলেও এতে ভালো ফলাফল (তাদের জন্য) আসবে বলে তারা মনে করছে

অবশ্য এই পদ্ধতিতে বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার কয়েকটি ধারণার উপর ভিত্তি করে এগুচ্ছে, যেমন: সেনাবাহিনী পক্ষ পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে আছে; সেনাবাহিনী নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে পক্ষ পরিবর্তন করবে; মাদুরোর প্রতি তাঁর দেশের মানুষের সমর্থন খুব একটা নেই; ভেনিজুয়েলার বিদেশি মিত্র, বিশেষত চিন, কিউবা রাশিয়ার এই বিষয়ে তেমন কোন আগ্রহ নেই; এবং ক্ষমতায় পরিবর্তন আসার পর অতীত অতীত হয়েই থাকবে, ভবিষ্যতের উপর কোন প্রভাব ফেলবে না

যুক্তরাষ্ট্রে এসকল ধারণা হয়তো সঠিক প্রমাণিত হবে, কিন্তু খুব সহজেই ভুল প্রমাণিতও হতে পারে সামরিক বাহিনী হয়তো মাদুরোর কট্টর সমর্থক কিংবা মাদুরোর পক্ষেবিপক্ষে দ্বিধা বিভক্ত হয়ে যেতে পারে দুর্ভিক্ষ আর মারাত্মক মূল্যস্ফীতি সত্ত্বেও হুগো শ্যাভেজপন্থীরা হয়তো শ্যাভেজবাদী নেতার পিছনেই থাকবে নাগরিক সমাজের সহিংসতার বিস্ফোরণ ঘটতে পারে মাদুরোর বিদেশি বন্ধুরা তাদের নিজেদের স্বার্থেই হয়তো তাঁর পক্ষে মাঠে নামতে পারেন উদাহরণ স্বরূপ ভেনিজুয়েলার তেলে নিজেদের অংশ ঠিক রাখার স্বার্থে মাদুরোকে সমর্থন অথবা তাঁর পতন বিলম্বিত করার চেষ্টা করতে পারে

 যুক্তরাষ্ট্রের উসকানিতে কোন শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে, এমন রেকর্ড খুব বেশি নয় তালেবানের বিরুদ্ধে ১৮ বছর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে যুদ্ধ পরিচালনার পর এখন তাদের সাথে শান্তি আলোচনায় বসতে হচ্ছে ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া প্রভৃতি দেশেও যুক্তরাষ্ট্রের নাক গলানোর ফলে বিবাদ নিরসন হয় নি, বরং ধারাবাহিকভাবে চলছে ভেনিজুয়েলায় যে এর চেয়ে ব্যতিক্রমী কোন কিছু ঘটবে, এমন কোন নিশ্চয়তা নেই

সহিংসতা চরম বিশৃঙ্খলার অবিচ্ছেদ্য চক্র খুব শিগগিরই শুরু হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ভেনিজেুয়েলার একমাত্র খাদ্য সরবরাহ তেলক্ষেত্রের সরঞ্জামাদি সরবরাহের পথ বন্ধ করে বিশৃঙ্খলার পথ খুলে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের নিজস্ব হিসাব অনুসারে, নিষেধাজ্ঞার ফলে আগামী বছর শুধুমাত্র তেলের আয় বাবদ ভেনিজুয়েলার অর্থনীতি ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হারাবে, যা কিনা গত বছরের মোট পণ্য আমদানির খরচের ৯৪ শতাংশ এর ফলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হতে পারে, যে রকম বিপর্যয় ইতোপূর্বে কখনো আমাদের এই গোলার্ধে সংগঠিত হয় নি

আমরা দৃঢ়ভাবে বিকল্প উপায়ে সমাধান কামনা করি এক পক্ষই পুরোপুরি বিজয়ী হবে, অপর পক্ষ ধ্বংস হয়ে যাবে এরকম মরণ খেলার বদলে শান্তিপূর্ণ উপায়ে আলোচনার মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন হতে পারে আমাদের প্রথম কথা হলো মাদুরো তাঁর বিরোধীদের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব কিংবা উভয় পক্ষের বহিরাগত সমর্থকদের দ্বন্দ্বের কারণে সাধারণ জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলা যাবে না

যদিও মাদুরো বিরোধীরা স্বীকার করতে চাইবে না বরং বিরক্ত হবে, তবু বাস্তবতা হলো এখনো ভেনিজুয়েলার রাজনীতিতে এবং সামরিক বাহিনীর মধ্যে শ্যাভেজবাদের গুরুত্ব রয়েছে কাজেই আমরা চাই দ্বন্দ্বে না জড়িয়ে উভয়পক্ষের ছাড়ের মানসিকতা নিয়ে সমাধান বের করা হোক আমাদের একজন সম্প্রতি ১৯৮৯ সালের পোল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা নিয়ে লিখেছি সেখানে বিবাদমান দুটি পক্ষ ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট তাদের বিরোধী দল পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত দুই বছর মেয়াদী একটি যৌথ সরকার গঠন করে  ভেনিজুয়েলার সরকার এবং বিরোধী দল উভয় পক্ষই আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যদিও উভয়পক্ষের বাইরের মিত্ররা কোন ধরনের ছাড় না দিয়ে সংঘাত চালিয়ে যেতে উৎসাহ যোগাচ্ছে

উপরের কোন কিছুই নিকোলাস মাদুরো সরকারের জঘন্য দেশ পরিচালনা কিংবা ভয়াবহ মানবাধিকার লংঘনের প্রমাণ অস্বীকার কিংবা এগুলোর পক্ষে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করানোর উদ্দেশ্যে বলা হয় নি। কিন্তু এসব অত্যাচচারের কারণে এমন কোন কিছু করতে পারি না, যা কেবল মাত্র ভেনিজুয়েলাবাসীর দুর্ভোগের মাত্রাকে অনির্দিষ্টকাল ধরে আরো বৃদ্ধি করবে। আমাদের উচিত এমন একটা বোঝাপাড়া তৈরি করা যে শুধুমাত্র আলোচনা আর ছাড় দেওয়ার মাধ্যমেই একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান বের করা সম্ভব।

আমরা বর্তমান রাজনৈতিক যুদ্ধের উভয় পক্ষের নিকট এইটুকু চাই যে এমন একটি উপায় খুঁজে বের করা হোক, যার মাধ্যমে রক্তপাত, দুর্ভিক্ষ, লাখ লাখ শরণার্থী অথবা বাইরের শক্তি কর্তৃক চাপিয়ে দেওয়া রাজনৈতিক সমাধান থেকে দেশকে বাঁচানো সম্ভব হয়। আমরা বিশ্বাস করি, বিশ্ববাসীর বিশেষত দেশটির প্রতিবেশীদের উচিত হবে ভেনিজুয়েলাবাসীর নিজেদের কথা শুনা। যুক্তরাষ্ট্র হয়তোবা একক সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হবে, তবে সেটার জন্য লাখ লাখ ভেনিজুয়েলাবাসীর সীমাহীন দুর্ভোগ পোহানোর ঝুঁকি নিতে হবে, যে ধরনের দুর্ভোগের মুখোমুখি তারা আজ পর্যন্ত হয়নি।

আমাদের পরামর্শ হলো প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে শ্যাভেজপন্থী এবং বিরোধী শক্তি মিলে নিশ্চিত করতে হবে যে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পেট্রলেস দে ভেনিজুয়েলার আয় দ্বারা জনসাধারণের দুটি জরুরি খাদ্য প্রয়োজন ও ওষুধ এবং ভেনিজুয়েলার অর্থনীতিকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য তেলক্ষেত্রের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি ক্রয় করা হবে। এই ফান্ডের টাকার ব্যবহার জাতিসংঘের সহযোগিতায় বর্তমান সরকার এবং ন্যাশনাল অ্যাসেমব্লির যৌথ কমিটি কর্তৃক পরিচালিত হতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে সিদ্ধান্তে এখন গুয়াইদোর হাতে তেলের আয় পৌছাচ্ছে। জাতীয় স্বার্থে তাকেই শিগগিরই এরকম একটি প্রস্তাব করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, উভয়পক্ষকে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিষয়ে একমত হতে হবে, যাতে মাত্রাতিরিক্ত মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক ধ্বসের সমাধান করা সম্ভব হয়। এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সীমিত ক্ষমতা নিয়ে আগামী এক অথবা দুই বছরের মধ্যে দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা পুনরুদ্ধার করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। মাদুরোসহ বর্তমান সরকারের নেতৃবৃন্দ এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে সীমিত ও পুর্বনির্ধারিত কিছু ভূমিকা পালন করবেন। উদাহরণস্বরূপ জাতীয় প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা তাদের হাতে রাখা যেতে পারে, কিন্তু তাদের ক্ষমতা হবে সীমাবদ্ধ এবং অর্থনৈতিক সংস্কার ও নির্বাচন পদ্ধতি তাদের ক্ষমতার আওতায় থাকবে না।

চুক্তির মধ্যে একটি নতুন স্বাধীন নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের নিয়োগের বিষয়টিও থাকবে, যে কর্তৃপক্ষ দেশের নির্বাচনী প্রতিষ্ঠান সমূহ পুনরায় গঠন করবে যাতে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন করা সম্ভব হয়। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের সহায়তায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত হবে স্থিতিশীলতা আনয়নের এরকম প্রচেষ্টাকে সমর্থন করা এবং মুদ্রাস্ফীতি সমস্যার সমাধান ও নির্বাচনী প্রতিষ্ঠানসমূহের সংস্কারের পর সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে উপযুক্ত সময়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে গ্রহণ করা।

তৃতীয়ত, রূপান্তরিত সরকার ব্যবস্থা ও ভবিষ্যতের নির্বাচনী কাঠামো ক্ষমতার পৃথকীকরণ ও বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার রক্ষার প্রতি সম্মান রেখে গঠন করা উচিত। সর্বোপরি ভেনিজুয়েলার প্রতিবেশীদের উচিত সব কিছু জিতে নেওয়ার খেলায় না মেতে আলোচনা ও ছাড় দেওয়াকে সমর্থন করা। ভেনিজুয়েলার পুনরুদ্ধার এখন ভেনিজুয়েলার জন্য এবং পুরো অঞ্চলের জন্য সবচেয়ে জরুরি কাজ।

লেখাটি নিউ ইয়র্ক টাইমসের অনলাইন সংস্করণে ফেব্রুয়ারির দুই তারিখ “An Urgent Call for Compromise in Venezuelaশিরোনামে প্রকাশিত হয়। লেখকদ্বয় অর্থনীতিবিদ এবং লাতিন আমেরিকা বিশেষজ্ঞ।


Happy

Happy

0 %


Sad

Sad

0 %


Excited

Excited

0 %


Sleepy

Sleepy

0 %


Angry

Angry

0 %


Surprise

Surprise

0 %

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments