0 0 lang="en-US"> যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় স্বাধীনতা কি শুধুই খ্রিষ্টানদের জন্য? - ভাষান্তর
ভাষান্তর

যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় স্বাধীনতা কি শুধুই খ্রিষ্টানদের জন্য?

Read Time:5 Minute, 6 Second
সম্পাদকীয় বোর্ড, নিউ ইয়র্ক টাইমস:
গত গ্রীস্মে সুপ্রিম কোর্ট যখন ট্রাম্পের মুসলিম বিদ্বেষকে অন্ধ সমর্থ করছিলো, বিচারপতি সোনিয়া সটমেয়র তখন সে আদালতে ভিন্নমত পোষণ করে সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারক সংবিধানের “ধর্ম সহনশীলতার মূলনীতির” ক্ষতি সাধন করছিলেন।

তিনি বলেছিলেন, এর মাধ্যমে আদালত আমাদের দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদেরকে এই বার্তা দিচ্ছেন যে তারা বহিরাগত, আমাদের রাজনৈতিক সম্প্রদায়ের পূর্ণ সদস্য নন।”

পরবর্তীতে গত মঙ্গলবারে আদালত আবারো একই বার্তা প্রদান করেন। এবার ডমিনেক হাকিম মার্সেলে রে নামক এক মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি, যিনি ১৯৯৫ সালে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষা করছেন, তার ক্ষেত্রে এই ঘটনা ঘটে।

একদিন আগে একটি আপিল আদালত হাকিমের মৃত্যুদণ্ড বাস্তবায়ন স্থগিত করেছিলেন, কারণ হলম্যার কারেকশনাল ফ্যাসিলিটি (যেখানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা) সরকার কর্তৃক ধর্মীয় পক্ষপাতিত্বের বিরুদ্ধে সংবিধানের নিষেধাজ্ঞা লংঘন করছে কি না, তা যাচাই করার জন্য বিচারকরা সময় চাচ্ছিলেন।  

হাকিম তার মৃত্যুর সময় পাশে একজন ইমামকে চেয়েছিলেন। কিন্তু হলম্যানে অপরাধীদের মৃত্যুপূর্ব প্রার্থনার জন্য শুধুমাত্র একজন খ্রিষ্টান ধর্মযাজককে নিয়োগ দিয়েছে। এবং কারাকর্মরকর্তারা বলেছেন যে, হাকিমের মৃত্যুদণ্ডে বাস্তবায়নের সময় তার পাশে একজন ইমাম থাকার অনুমতি দেওয়াটা নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত ঐ আসামি দাবি করেছিলেন যে, তার মৃত্যুর সময় ইমামের বদলে খ্রিষ্টান যাজককে রাখাটা স্বাধীনভাবে ধর্মচর্চিার অধিকারের লঙ্ঘন।

৫ বরাম ৪ ভোটে উচ্চাদালত গত বৃহষ্পতিবার মৃত্যুদণ্ড বাস্তবায়নের অনুমতি দেয়। কারা ইমাম ইউসুফ গ্লাসের পেছন থেকে মৃত্যুদণ্ড বাস্তবায়ন দেখতে পান।

সুপ্রিম কোর্টের আরো পাঁচ সদস্য হাকিমের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। তারা তাদের আদেশে বলেন তার উচিত ছিল আরো আগে তার ধর্মীয় উদ্বেগের কথাটি জানানো।

বিচারপতি এলেনা কাগান তার আপত্তিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারিকদের সিদ্ধান্ত “গভীরভাবে ভুল” বলে আখ্যায়িত করেন।  

তিনি লিখেন, “এই নীতির আলোকে একজন খ্রিষ্টান বন্দী মৃত্যুদণ্ডের সময় তার শেস প্রার্থনার জন্য নিজ ধর্মের যাজক পাবে, কিন্তু বন্দী যদি অন্য ধর্মের হয়, তা সে মুসলিম, ইহুদি বা অন্য যে কোন ধর্মের হোক, তাহলে সে তার ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে পাশে পাবে না তার মৃত্যুর সময়। এই ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতার বিপক্ষে যায়।”

তিনি আরো যোগ করেন যে “হাকিম একটি শক্তিশালী দাবি উপস্থাপন করেছিলেন যে, তাকে যখন মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে তখন তার ধর্মীয় অধিকার লঙ্ঘিত হবে।”

এর ফলে সুপ্রিম কোর্ট মুসলমানদের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে নৈতিক ব্যর্থতাকে এই ঘটনার সাথে মিশিয়ে ফেলেছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে মুসলমানরা বঞ্চিত হয়েছে। রাত ১০:১২তে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর আসামি আইনজীবী স্পেন্সার বলেন, “তিনি তার শেষ মুহূর্তে সমান আচরণ প্রত্যাশা করেছিলেন”

________________________________


লেখাটি ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ তারিখে নিউ ইয়র্ক টাইমসের অনলাইন সংস্করণে Is Religious Freedom forChristians Only? শিরোনামে সম্পাদকীয় নিবন্ধ হিসেবে প্রকাশিত হয়। ছবি নিউ ইয়র্ক টাইমস থেকে সংগৃহীত।

Happy
0 0 %
Sad
0 0 %
Excited
0 0 %
Sleepy
0 0 %
Angry
0 0 %
Surprise
0 0 %
Exit mobile version