Tuesday, June 15, 2021
0 0
Homeমধ্যপ্রাচ্যইহুদিবাদের নাম বদল আর ঐতিহ্য ধ্বংসের কৌশল ব্যর্থ হতে যাচ্ছে

ইহুদিবাদের নাম বদল আর ঐতিহ্য ধ্বংসের কৌশল ব্যর্থ হতে যাচ্ছে

Read Time:19 Minute, 6 Second


রামযি বারুদ ও রুমানা রুবিও, আল জাজিরা:
 “জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের সবকিছুই ইসরায়েলি দখলদারদের লক্ষ্যবস্তু।” গত ২৯ জানুয়ারি চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী সংস্থা ডক্টর্স উইদাউট বর্ডার্স’র সাথে এক সাক্ষাতে কথাগুলো বলছিলেন জেরুজালেমের গ্রিক অর্থডক্স চার্চের আর্চবিশপ আতাল্লাহ হান্না।
 “ইসলামি ও খ্রিষ্টান পবিত্র নিদর্শনসমূহ তাদের লক্ষ্যবস্তু, কারণ তারা আমাদের শহরকে পাল্টে ফেলতে চায়, আরব ও ফিলিস্তিনি অস্তিত্বকে কোনঠাসা করতে চায়।” একথা গুলোও যোগ করেন আর্চ বিশপ।
হান্না ইসরায়েলের ইহুদিকরণ স্কিমের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের সংগ্রামের অন্যতম অগ্রদূত। জেরুজালেম যে ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তু, তার এই বর্ণনা নিঃসন্দেহে সঠিক। তবে তার চেয়ে কঠিন সত্য হলো শুধুমাত্র পবিত্র শহর নয়, বরং পুরো ফিলিস্তিনকে ফিলিস্তিনি চরিত্র থেকে বিচ্যুত করার একটা সুপরিকল্পিত কার্যক্রম চলছে।
কয়েকদিন পর এই খ্রিষ্টান নেতা মন্তব্য করেন যে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ গালিল সাগরের পশ্চিম উপকূলে টিবেরিয়াস শহরের ঐতিহাসিক আল-বাহর মাসজিদে খনন কার্য  চালিয়েছে। এ স্থানে ইসরায়েল একটি যাদুঘর বানাতে চাই। ইতোঃপূর্বেও ইসরায়েল ঐতিহাসিক নিদর্শনসমূহ মুছে ফেলতে এরকম কাজ বহুবার করেছে।

একটি ‘উদ্ভাবিত জনগোষ্ঠী’:

ইসরায়েল কর্তৃক ফিলিস্তিনিদের ঐতিহাসিক অধিকার অস্বীকার করার শেকড় ইহুদিবাদী আদর্শের গভীরে প্রোথিত। প্রকৃতপক্ষে একদম শুরুর দিকে ইহুদিবাদীরা প্রচার করেছিলো যে ইসরায়েল একটি সংস্কৃতি কিংবা ঐতিহ্য বঞ্চিত স্থান, যেটি পুষ্পশোভিত হওয়ার জন্য ইহুদিবাদী অগ্রদূতদের অপেক্ষা করছে।
আসলে ফিলিস্তিনি জনগণের অস্তিত্ব মুছে ফেলার জন্য ফিলিস্তিন সম্পর্কে “ভূমিহীন মানবগোষ্ঠীর জন্য জনমানবহীন ভূমি” জাতীয় মিথ প্রচার করাটা আসলে ইহুদিবাদীদের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল।
ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর ইসরায়েলের নেতারা একথাটি কখনোই গোপন করেন নি যে এটিই তাদের আসল উদ্দেশ্য। “এখানে ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠী ছিল, তারা নিজেদেরকে ফিলিস্তিনি মনে করতো, আমরা এসে তাদেরকে তাদের দেশ থেকে বের করে দিলাম এবং তাদের দেশটি দখল করে নিলাম। কখনোই তাদের অস্তিত্ব ছিল না। এরকম একটা বিষয় খুব কঠিন কিছু নয়।” ইসরায়েলের এক সময়ের প্রধানমন্ত্রী গোল্ডা মেইর (১৯৬৯-১৯৭৪) ১৯৬৯ সালে সানডে টাইমসের সাথে একটি সাক্ষাৎকারে এরকম খোলামেলা কথা বলেন।
ফিলিস্তিনিরা আসলে নির্দি্টি জাতীয়তা বোধ সম্পন্ন জনগোষ্ঠী নয়, ইহুদিবাদীদের এমন একটি ধারণা এখনো বিদ্যমান আছে এবং এ ধারণাটি ইসরায়েলের সীমা অতিক্রম করে এর বাইরেও বিস্তার লাভ করেছে। মার্কিন অ্যাভানজেলিকাল খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অনেকেই এই মতের ঘোর সমর্থক, যা অনেক মার্কিন নেতা প্রকাশ্যে প্রচার করেন। উদাহরণস্বরূপ ২০১১ সালে মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী নিউট গিংরিচ একটি ইহুদিবাদী চ্যানেলে সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে ফিলিস্তিনিরা “একটি উদ্ভাবিত জনগোষ্ঠী ছিল।
এ ধারণার বাস্তব প্রয়োগ হচ্ছে যেকোন ইহুদিবাদী স্থাপনা প্রতিষ্ঠা, সেটা শহর, বসতি, ফাঁড়ি সড়ক কিংবা শিল্প, সংস্কৃতি, ধর্ম এবং অন্য যে কোন কিছুর উপাদানই হোক না কেন, ফিলিস্তিনিদের শহর, রাস্তা, গ্রাম, বাড়িঘর, সংস্কৃতি, ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংস করার সাথে একই সমান্তরালে চলতে থাকবে।

ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব মুছে ফেলা:

২-১৮ সালের ১৯ জুলাই ইসরায়েলের সংসত নেসেটে “জাতি-রাষ্ট্র বিল” পাশ করার মাধ্যমে  আসলে জাতি বিদ্বেষের প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান করা হয়েছে, ইসরায়েলকে ইহুদি জনগোষ্ঠীর জাতীয় মাতৃভূমি আখ্যায়িত করার মাধ্যমে এবং ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠী, তাদের ইতিহাস ও ভাষাকে কোণঠাসা করার মাধ্যমে। তবে এই বিল মূলত কয়েক দশক ধরে চলে আসা ইহুদিবাদীদের প্রচেষ্টার ফলাফল।
 উদাহরণস্বরূপ, ব্রিটিশ আমলে ঔপনিবেশিক কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন অঞ্চল, শহর ও গ্রামের আরবি নাম ব্যবহার করতো, যার সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৭,০০০। অন্যদিকে হিব্রু নাম ছিল মাত্র ২০০ টি, অধিকাংশই ইহুদি বসতি, এরমধ্যে ইহুদিবাদী আন্দোলনের পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মিত নতুন কয়েকটি বসতিও ছিল। এটা সেসময়ে (১৯২০ এর দশকে ব্রিটিশ শাসনের শুরুর দিকে) ফিলিস্তিনে জনসংখ্যার বণ্টন ও ভূমির মালিকানার একটি নির্দেশক। সেসময় নবাগত বসতি স্থাপনকারীদের সহ মোট ইহুদি জনসংখ্যা ছিল শতকরা ১১ ভাগ।
যাই হোক, ফিলিস্তিনি এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাদ বাকি আরব জনগোষ্ঠীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ইসরায়েলি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরপরই ফিলিস্তিন “পুনরুদ্ধারের” নামে একটি অসাধু অভিযান শুরু হয়।
১৯৪৮ সালে প্রথম ইসরায়েলি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী য়িৎযাক গ্রুয়েনবামের নিকট প্রেরিত একটি চিঠিতে লেখা ছিল, “প্রচলিত নামসমূহকে নতুন নাম দ্বারা প্রতিস্থাপিত করা আবশ্যিক। আমাদের পুরনো দিনকে নবায়ন করতে হলে এবং চমৎকার জনগোষ্ঠী নিয়ে বসবাস করতে হলে যার শিকড় আমাদের দেশের মাটিতে প্রোথিত আমাদেরকে অবশ্যই দেশের মানচিত্রের মৌলিক হিব্রুকরণ শুরু করতে হবে।”
এরপরই সরকার একটি কমিশন তৈরি করে তাদেরকে ফিলিস্তিনি সবকিছুর নয়া নামকরণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। যাতে শহর, গ্রাম ও অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের ভৌগলিক এলাকায় নতুন রাষ্ট্রের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৫৭ সালে ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার লেখা আরেক চিঠিতে নাকবার সময় দখলকৃত ফিলিস্তিনি ঘর-বাড়িসমূহ ধ্বংস করার কাজের গতি বাড়ানোর জন্য প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে অনুরোধ করে। এই কর্মকর্তা লিখেন- “আরব গ্রাম ও এলাকাগুলোর ধ্বংসাবশেষ এবং ১৯৪৮ সাল থেকে খালি পড়ে থাকা বাড়িগুলো ক্ষতির কারণ হতে পারে, এর ফলে রাজনৈতিক খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই এসকল বাড়ি ঘর ভেঙে সাফ করে দেওয়া উচিত।”
ফিলিস্তিনিদের নিশ্চিহ্ন করা এবং তাদের মাতৃভূমির ইতিহাস থেকে তাদেরকে বের করে দেওয়াটা ইসরায়েলের সার্বক্ষণিক কৌশলসমূহের একটি।
ইসরায়েলি পণ্ডিত মাওজ আজারয়াহু ও আর্নন গোলান তাদের “(Re)naming the Landscape: the Formation of the Hebrew Map of Israel” (ভূচিত্রের [পুনঃ]নামকরণ: হিব্রু মানচিত্র গঠন) শীর্ষক গবেষণা পত্রে লিখেন- “ ‘ইসরায়েলকে হিব্রুকরণ’ আধুনিক ইহুদিবাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন বলে বিবেচনা করা হয়। সাধারণত হিব্রুকরণ বলতে বুঝায় (ইহুদি) জাতি গঠন প্রকল্পের সহায়ক হিসেবে ইহুদিবাদের (জায়নিজম) নিজ দায়িত্বে ও সহযোগিতায়া হিব্রু ভাষার পুনরুজ্জীবন ঘটানো।”
এটি ইসরায়েলের জন্য যেমন সত্যি, ঠিক তেমনি অন্যান্য উপনিবেশ স্থাপনকারীদের ক্ষেত্রেও সমান সত্যি। এবং অন্যান্য বসতি স্থাপনকারী উপনিবেশবাদী শক্তির মতোই, ইসরায়েল বিভিন্ন স্থান, স্থানের নাম এবং উপনিবেশকৃত অঞ্চলের জনগণের মধ্যকার গুরুত্বপূীর্ণ সম্পর্কের বিষয়ে পুরোপুরি সচেতন।
যেমনটা কানাডিয়ান ইতিহাসবিদ কালেইঘ ব্রাডলি তার সাম্প্রতিক একটি প্রবন্ধে তুলে ধরেছেন: “স্থানীয় অধিবাসীদের জন্য স্থানের নামসমূহ স্মৃতি জাগিয়ে তোলার যন্ত্ররূপে কাজ করে। এই নামগুলো মানুষের মনে ইতিহাস, আধ্যাত্মিক ও পরিবেশগত জ্ঞান এবং ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাকে মূর্ত করে তোলে। এছাড়াও জায়গার নাম দেশের অভ্যন্তর ও বহির্বিশ্বের মধ্যে এক ধরনের সীমান্ত হিসেবে কাজ করে।”
ফিলিস্তিনি জায়গাসমূহের নাম বদল, ফিলিস্তিনি ঐতিহ্যবাহী স্থানসমূহের ধ্বংসসাধন, ফিলিস্তিনি সংস্কৃতিকে নিজেদের দাবি করা, আরবি ভাষাকে অবমূল্যায়ন করা এবং ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর সাংষ্কৃতিক অবদান মুছে ফেলার ইহুদিবাদী প্রচেষ্টা ৭০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান আছে।
অতিসম্প্রতি ইসরায়েল তাদের সহিংস সামরিক শক্তি শুধুমাত্র ফিলিস্তিনি মানুষ হত্যার জন্যই কাজে লাগাচ্ছে না, বরং তাদের সাংস্কৃতিক নিদর্শনাবলী ও ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয় ধ্বংস করার জন্যও তাদের সামরিক শক্তিকে ব্যবহার করছে। ফিলিস্তিনি দাপ্তরিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৪ সালে ৫১ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ৭৩টি মসজিদ ধ্বংস করেছে।
এর মধ্যে কিছু মসজিদের স্থাপনা এক হাজার বছরেরও বেশি পুরনো, যেমন জাবালিয়ার আল-ওমারি মসজিদ। এই মসজিদটি ১৩৬৫ খিষ্টাব্দের কাছাকাছি সময়ে নির্মিত হয়, এবং ফিলিস্তিনিদের আশার প্রতীক ও অতীত ঐশ্বর্যের স্মারক হিসেবে কাজ করতো।
এছাড়াও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান আল-আকসা মসজিদের উপর চাপ বৃদ্ধি করে। দেশটি হারাম আল-শরিফ প্রাঙ্গনে চরমপন্থী ইহুদিবাদী সংগঠন টেম্পল মাউন্ট ফেইথফুলের জোরপূর্বক অনুপ্রবেশে সহযোগিতা করছে, উল্লেখ্য হারাম আল-শরিফে আল-আকসা অবস্থিত। এই চরমপন্থী গোষ্ঠী ঘোষণা করেছে যে তারা টেম্পর মাউন্টে তৃতীয় উপাসনালয় নির্মাণের জন্য আল-আকসা ধ্বংস করতে আগ্রহী, স্পষ্টতই ইসরায়েল সরকারও এরকমটাই চায়।
এছাড়াও নাবলুস, আল খালি (হেব্রন), আরিয়া (জেরিচো), ইয়াফফা (জাফা), হাইফা এবং আরো অনেক ফিলিস্তিনি শহর ও গ্রামে বিভিন্ন সময়ে আক্রমণ করা হয়েছে।
তা সত্ত্বেও, এতো ধ্বংস সাধনের পরও, বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে, ইসরায়েল এখনো তার অতীত এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে নিরাপত্তার অভাব বোধ করছে।

ফিলিস্তিনি সুমুদ

খ্যাতনামা ইসরায়েলি ঐতিহাসিক বেনি মরিস ইসরায়েলি পত্রিকা হারেৎজ’র সাথে একটি সাক্ষাৎকারে তার দেশের ভয়ানক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করেন।
ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল ভূখণ্ডের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “এই স্থানটি মধ্যপ্রাচ্যের আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র হিসেবে বিস্ফোরিত হবে। দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সাথে সহিংসতা বাড়তে থাকবে আরবরা শরণার্থীদের পুনর্বাসনের দাবি জানাবে। ইহুদিরা বিশাল আরব ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর মধ্যে ছোট্ট সংখ্যালঘু হয়ে থাকবে, যেমনটা যখন তারা আরব দেশসমূহে বসবাস স্থাপন করেছিলো তখন ছিল।”  তিনি আরো যোগ করেন: “আগামী তিরিশ থেকে পঞ্চাশ বছরের মধ্যে তারা (আরবরা) আমাদেরকে (ইহুদিদেরকে) যেকোন উপায়ে অতিক্রম করবে।”
কথাগুলো তিনি দেশবাসীর মধ্যে বিদ্যমান ভয়কে কাজে লাগানোর জন্য এই মন্তব্য করেছেন, নাকি সত্যিকার অর্থে তার বিশ্বাস প্রকাশ করেছেন, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। হয়তো ইসরায়েলিরা যে তাড়াহুড়ো করে ফিলিস্তিনি পরিচিতির বিরুদ্ধে কাজ করছে, ফিলিস্তিনি সংস্কৃতির উপর আঘাত হানছে, ইহুদি বসতির বিস্তার ঘটাচ্ছে, রাস্তার নাম পাল্টাচ্ছে, আরবি ভাষাকে অবজ্ঞা করছে, অথবা আর্চবিশপ হান্নার ভাষায় বলা যায় “ফিলিস্তিনি সবকিছুকেই লক্ষ্য বানাচ্ছে”, এসব কার্যক্রমের ব্যাখ্যা করেছেন তিনি এই বক্তেব্যে।
কিন্তু ভবিষ্যদ্বাণীর অনুরূপ আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী কর্তৃক “নিপীড়িত সংখ্যালঘুদেরকে” “নির্বিচারে হত্যার” কারণে ইসরায়েল রাষ্ট্র ধ্বংস হবে না। বরং ধ্বংস হবে ইসরায়েলিদের বেপরোয়া কার্যক্রমের কারণে। ইহুদিবাদীদের আগেও ফিলিস্তিনে অনেক আক্রমণকারীরা এসেছিল। তাদের অনেকে পালিয়ে গেছে, কিন্তু অন্যরা ফিলিস্তিনের বৈচিত্রপূর্ণ সমাজের সাথে মিশে স্বাভাবিকভাবে মিশে গেছে।
ফিলিস্তিনিদের নিজেদের ভূমির সাথে তাদের যে সম্পর্ক, সেটা সহিংসতা, নেসেটে পাশ করা আইন কিংবা সেনা-শাসন দ্বারা নির্ধারণ কিংবা বাতিল করা যাবে না, ইসরায়েলিরা এই সত্যটাকে স্বীকার করছে না। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনিদের উপর আগ্রাসন যত বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাদের জাতীয়তাবোধ ততই শক্তিশালী হচ্ছে। মরহুম ফিলিস্তিনি কবি মাহমুদ দারবিশ তার “পরিচয়পত্র” কবিতায় ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধের স্পৃহাকে চমৎকার চিত্রায়িত করেছিলেন:

আমি এক উপাধিহীন নাম,এক ভূখণ্ডে সহিষ্ণু, সেখানে যা আছে তা নিয়েই,যেখানে সবাই বসবাস করে ক্রোধের বিস্ফোরণ নিয়ে,আমার শেকড় প্রোথিত হয়েছে সময়ের জন্মের আগে,ইতিহাসের সূচনারও পূর্বে,জলপাই আর সাইপ্রাস গাছের জন্মের ও পূর্বে,এমনকি ঘাস ফোটারও পূর্বে।

প্রথম দিককার ইহুদিবাদীরা ভুল ছিল। ফিলিস্তিনি গ্রাম ধ্বংস, রাস্তার নাম পরিবর্তন আর মসজিদ-গীর্জা ধ্বংস করে একটি জাতির স্বাতন্ত্র্যবোধকে, পরিচিতি জ্ঞানকে ধ্বংস করা যায় না।
ফিলিস্তিনি সুমুদ (দৃঢ়তা) ইসরায়েলের যে কোন, এবং সকল সামরিক ও রাজনৈতিক কৌশলের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী হয়ে ওঠেছে। আর এই দৃঢ়তাই কেবল মরিসের ভবিষ্যদ্বাণীকে সত্য প্রমাণিত করবে। ফিলিস্তিনিদের বিশাল সাগর দখলদারদের গ্রাস করে ফেলবে। ‍
________________________________

লেখক পরিচিতি: রামযি বারুদ একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কলামিস্ট। রুমানা একজন ফ্রিল্যান্সার লেখিকা। তাদের লেখা এই নিবন্ধটি আল জাজিরা ইংরেজির অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে। মূল নিবন্ধের শিরোনাম: Israel’s Judaisation of Palestine is failing.


Happy

Happy

0 %


Sad

Sad

0 %


Excited

Excited

0 %


Sleepy

Sleepy

0 %


Angry

Angry

0 %


Surprise

Surprise

0 %

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments