0 0 lang="en-US"> ব্রেক্সিট ঝামেলা: ইইউর ‘সর্বনাশা সাফল্য’ - ভাষান্তর
ভাষান্তর

ব্রেক্সিট ঝামেলা: ইইউর ‘সর্বনাশা সাফল্য’

Read Time:9 Minute, 11 Second
স্টিভেন এর্লাঙ্গার, নিউ ইয়র্ক টাইমস:


ব্রিটেনের সাথে ছাড়াছাড়ির বিষয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়ন অত্যন্ত শক্ত অবস্থান গ্রহণ করেছে এর মাধ্যমে তারা অন্যান্য সদস্যদেরকে ব্লক ছেড়ে যাওয়ার বিষয়ে নিরুৎসাহী করছে, এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবশিষ্ট ঐক্যটুকু ধরে রাখতে চাচ্ছে তবে এখন তাদের এই কৌশলই তাদের দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, সম্ভবত তারা এক ধরনের সর্বনাশা সাফল্য অর্জন করেছে এই ইস্যুতে

ব্রিটেনের ইইউ ত্যাগের আর মাত্র দশ সপ্তাহ বাকি আছে, প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে পরিকল্পনা সংসদে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, অথচ এখনো বিকল্প কোন পরিকল্পনার দেখা মিলছে না সব মিলিয়ে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন রীতিমতো বিপর্যস্ত

ইইউর কর্তাব্যক্তিরা এখন দুশ্চিন্তায় আছেন, ব্রিটেন কোন ধরনের চুক্তি ছাড়াই তথাকথিত কঠিন প্রস্থান,করে বসে কি না এর ফলে জমে থাকা বকেয়া কাজ, পণ্য খাদ্যদ্রব্য সরবরাহের বিলম্ব স্বল্পতা প্রভৃতি কারণে ব্রিটেনে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে এই পরিস্থিতি পুরো ইউরোপীয় অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে, যেহেতু ব্রিটেনের ৪০% বাণিজ্য ইইউর দেশসমূহের সাথেই হয়ে থাকে ইইউ এখনো এই সমস্যা সমাধানের কোন সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছে না, কারণ প্রধানমন্ত্রী মে পুরো প্রক্রিয়ার উপর নিজের নিয়ন্ত্রণ ইতোমধ্যে হারিয়ে ফেলেছেন

ইতালির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের পরিচালক নাথালি টোকি ব্রেক্সিট সম্পর্কে বলেন,  আসলেই এটি এক ধরনের সর্বনাশা সাফল্য, ব্রিটেনের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বর্তমানে যে ধ্বস নেমেছে সেটি সবাইকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে ইইউ ছেড়ে যাওয়ার চিন্তাটা আসলে কত খারাপএটি সাফল্য, তবে সর্বনাশা কারণ এই মুহূর্তে আর কোন বিকল্প রাস্তা নেই”, তিনি আরো বলেন

ব্রিটেনের অনেকে চাচ্ছেন মার্চের ২৯ তারিখের প্রস্থানটাকে আরেকটু বিলম্বিত করতে যাতে এর মধ্যে একটি নতুন ঐকমত্য তৈরির সুযোগ হয়, কিংবা নেতৃত্বের পরিবর্তন অথবা দ্বিতীয় আরেকটি গণভোটের আয়োজন করা যায় কোন চুক্তিতে উপনীত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা গেলে ইইউ ব্লক হয়তো বা এই বিলম্ব অনুমোদন করবে, তবু বিলম্ব করতে গেলে আরো নানা রকমের জটিলতার সৃষ্টি হবে

টোকি আরো বলেন, ইইউর আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে ঝামেলা এড়ানোর জন্য ব্রিটেনের প্রস্থান স্থগিত করলে সেটার ফল খারাপ, এমনকি আরো বেশি জঘন্য হতে পারে। আগামী ২৩ মে অনুষ্ঠিতব্য ইইউ সংসদ নির্বাচন মূলত এই ব্লকের লোকরঞ্জনবাদীদের (পপুলিস্ট) সাথে ইউরোপীয় সংস্কারপন্থীদের (ইউরোস্কেপটিক) চুড়ান্ত পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হবে। বর্ধিত ব্রেক্সিট বিতর্ক  এবং তৎপরবর্তী অনিশ্চয়তার কারণে বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে ছড়িয়ে পড়তে পারে, যার ফলে এমন অনেক ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে, যা বেশির ভাগ ক্ষমতাসীন সরকারের নিকটই অনাকাঙ্খিত।

এতদসত্ত্বেও ইউরোপীয় ব্লকের বেশির ভাগ নেতাই ব্রিটেনের সাথে ছাড়াছাড়ির চুক্তি নিয়ে যে কোন পুনরালোচনা কিংবা পুনর্বিবেচনা প্রত্যাখ্যান করতে একমত বলে মনে হচ্ছে, কেননা তারা মনে করেন বর্তমান অবস্থাতেই ব্রিটেন স্বার্থ হাসিলের পথে অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে, কাজেই তাদের সুবিধার্থে আর নতুন কোন আলোচনার দরকার নাই।

এই মুহূর্তে ইউরোপীয়রা বসে আছে ব্রিটেনের আইনপ্রণেতারা কী করেন তা দেখার অপেক্ষায়। একই সাথে তারা ব্রিটেনের ‘চুক্তিবিহীন’ প্রস্থানের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং ২৯শে মার্চকে ব্রিটেনের জন্য কঠিন সময়সীমা বলে মনে করছেন।

এ বিষয়ে ইউরোপিয়ান কাউন্সিল ফর ফরেন রিলেশন্স-এর পরিচালক মার্ক লিওনার্ড বলেন, “পুরোপুরি সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাক, তা কেউই চায় না। কেননা এটা উভয়পক্ষের জন্যই ক্ষতিকর, যদিও ইউকের জন্য বেশি ক্ষতিকর। কিন্তু অন্যান্য ইইউ রাষ্ট্র যৌক্তিক কারণেই বিশ্বাস করে যে ব্রিটেন এরকম কোন কিছু করবে না, যদি না সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠদের মতামত চুক্তির বিরুদ্ধে চলে যায়।”

অবশ্য একবার বিচ্ছেদের চুক্তি হয়ে গেলেও পরবর্তীতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে ব্রিটেনের সম্পর্ক বিভিন্ন উপায়ে আলোচিত হতে পারে, ইউরোপীয় কর্মকর্তারা এমনটাই মনে করেন। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই যে ইস্যুটি সামনে আসবে তা হলো, আয়ারল্যান্ড দ্বীপে কোন ধরনের দুর্লঙ্ঘনীয় সীমান্ত বানানো যাবে না। এ বিষয়টি ব্রিটেনকে মনে রাখতে হবে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যক্রোঁ ব্রেক্সিট ইস্যুতে বিশেষভাবে শক্ত অবস্থানে আছেন, কারণ ব্রিটেন এই ব্লক ছেড়ে চলে গেলে ফ্রান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের সুযোগ পাবে।

কিন্ত বর্তমানে তিনি যেহেতু নিজদেশে মারাত্মক অজনপ্রিয় এবং তাঁর দেশেই ইউরোপ বিরোধী ‘হলুদ জ্যাকেট’ আন্দোলন চলছে, তাই “ব্রিটেনের পরিস্থিতি যত জঘণ্য ও ভয়ঙ্কর হবে, তাঁর দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির ততই উন্নতি হবে”, লিওনার্ড সাহেব এমনটাই বিশ্লেষণ করেন।

প্যারিসের সায়েন্সেস পো’র রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ক্রিশ্চিয়ান লিকুয়েসন বলেন, “ফ্রান্স ইউরোপীয় ইউনিয়নের একক বাজারে (ব্লকের দেশসমূহের মধ্যে কোন ধরনের সীমানা বা অন্যান্য বাঁধা ছাড়াই বাণিজ্য সুবিধা) কোন শিথিলত মেনে নেবে না।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ব্যাপারে, ফ্রান্স “ব্রিটিশদের বাদ দিয়ে নতুন সংসদের সাথে আলোচনা এড়িয়ে যেতে চাচ্ছে। যদিও ব্রিটিশরা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো ইইউর বাইরে নয়।” তিনি আরো বলেন, “এটা খুবই জটিল পরিস্থিতি।”

এমনকি জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল পর্যন্ত বলেছেন, “এটা পরিষ্কার যে চলমান চুক্তি সম্পর্কে কোন পুনরালোচনা হতে  পারে না।” যদিও তিনি ব্রিটেনের সাথে ঘনিষ্ঠ রাখতে আগ্রহী, এবং নীতিগতভাবে ব্রিটেনের প্রস্থানের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়েও তাঁর কোন আপত্তি নেই।

স্টিভেন এর্লাঙ্গার: ইউরোপে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রধান কূটনৈতিক প্রতিনিধি।

নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত “Amid Brexit Chaos, E.U. Sees a CatastrophicSuccess’” শীর্ষক প্রবন্ধের প্রথম অংশের অনুবাদ। ভাষান্তর ডেস্ক কর্তৃক অনূদিত। ছবি নিউইউর্ক টাইমসের ওয়েবসাই থেকে সংগৃহীত।

Happy
0 0 %
Sad
0 0 %
Excited
0 0 %
Sleepy
0 0 %
Angry
0 0 %
Surprise
0 0 %
Exit mobile version